‘কঠিন শর্তে’ আপত্তি, পরিবর্তন করে নতুন দরপত্র হচ্ছে

কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম

শুকলাল দাশ | বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ

কঠিন শর্ত ও উচ্চ জামানতের কারণে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় রেলওয়ের প্রথম দফা দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়নি। ৬ তলা বিশিষ্ট এই স্টেশন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে ৬ তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক স্পেসগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার জন্য গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে দরপত্র আহ্বান করা হলে এতে আটটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনে। কিন্তু দরপত্রের কঠিন শর্তের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান এখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী হয়নি। কেউ দর প্রস্তাব জমা দেয়নি।

তারা রেল সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেশ কিছু শর্তের ব্যাপারে আপত্তি করেছিলেন। এসব কঠিন শর্ত পরিবর্তনের দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু শর্ত পরিবর্তন করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে।

রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান দরপত্র নিয়েছিল তারা দরপত্র জমা দেয়নি। তারা দরপত্রের কিছু শর্ত পরিবর্তনের দাবি করেছিল। কিছু শর্ত পরিবর্তন করে নতুন করে দরপত্র আহবানের প্রক্রিয়া চলছে।

রেল ভবনের এক কমর্কর্তা জানান, আইকনিক স্টেশনের নিচতলা এবং দ্বিতীয় তলায় রেলওয়ের অপারেশনাল কাজ চলবে। উপরে তৃতীয় তলায় শপিংমল, ৪র্থ তলায় তারকা মানের হোটেল, ৫ম তলায় কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনাসহ ৬ তলা প্রাইভেট খাতে লিজ দেওয়া হবে। হোটেল, শপিংমল এবং কমিউনিটি সেন্টারের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে। তারকা মানের হোটেল, শপিংমল এবং কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনার মতো রেলের এত স্টাফ নেই। আন্তর্জাতিক মান যাতে বজায় থাকে সেই কারণে প্রাইভেট খাতে লিজ দেওয়া হচ্ছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারে ৬ তলা রেল স্টেশন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টারসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় গত ২৫ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ৫ মার্চ। মোট আটটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কেউ দরপত্র জমা দেয়নি। আগ্রহী ব্যবসায়ীরা দরপত্রের কয়েকটি শর্ত পরিবর্তনের জন্য দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ১০ বছরের পরিবর্তে ২০ বছরের জন্য ইজারা চেয়েছেন। এককালীন ৫ কোটি টাকা এবং পারফরম্যান্স সিকিউরিটি হিসেবে আরো ১৫ কোটি টাকা দেওয়ার শর্ত ছিল। এককালীন এবং পারফরম্যান্স সিকিউরিটির ব্যাপারেও তারা আপত্তি করেছিলেন। টাকার পরিমাণ কমানোর দাবি করেছেন তারা। আগ্রহী ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে রেল ভবনে আগের দরপত্র পর্যালোচনা করে বেশ কিছু শর্ত পরিবর্তন করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় দোহাজারীকক্সবাজার ১০১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে ব্যয় হয় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর দোহাজারীকক্সবাজার রেললাইন উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনের পর ওই বছরের ১ ডিসেম্বর প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। তার এক মাস পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চালু হয় পর্যটক এক্সপ্রেস। কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনটি ২২ দশমিক ৭২ একর জমির ওপর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৭ বর্গফুট এলাকাজুড়ে অবস্থিত। প্রকল্পের মধ্যে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফুচকা খাওয়ানোর কথা বলে শ্যালিকাকে অপহরণ-ধর্ষণ, ভগ্নিপতির যাবজ্জীবন
পরবর্তী নিবন্ধপতেঙ্গায় সী বার্ড রেস্টুরেন্টকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা