এলপিজি : ভোক্তার ভোগান্তি দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিন

| বুধবার , ৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ বাড়তি দাম নিচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গত বুধবার সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এর পরও বিভিন্ন এলাকায় সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে। কোথাও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কেন সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কেন ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে, তা মাঠ পর্যায়ে খতিয়ে দেখতে হবে।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সরকার নতুন দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট কমেনি। ১২ কেজির সিলিন্ডার এখনও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত নতুন দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ার কথা ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কোথাও ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। অনেক জায়গায় এ বাড়তি দামেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়তি দামের জন্য খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকরা সরবরাহ সংকটকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাহিদামতো এলপিজি সরবরাহ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অপারেটররা দাবি করেছেন, বাজারে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই। বাজারে এলপি গ্যাসের বাড়তি দাম নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে।

দেশের বাজারে গত মাসে (২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) এলপিজি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন। যেখানে গত আগস্ট মাসে আমদানি ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টনের মতো। সে হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার টন এলপিজি কম আমদানি হয়েছে। শীর্ষ দুই এলপিজি অপারেটরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে ২৫–৩০ শতাংশ আমদানি কম হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে পর্যাপ্ত কার্গো বা জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং পরিবহন খরচও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অপারেটররা। তবে বাজারে এলপিজির বাড়তি দামের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে পণ্যটির সরবরাহ সংকট। অপারেটর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দেশে এলপিজির আমদানি সংকট না থাকলেও কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করা হচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে পণ্যটির দাম বাড়ছে, ফলে মজুদের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিইআরসি ও আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। নতুবা পণ্যটির দাম ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমরা মনে করি, এলপিজি বাড়তি দামে বিক্রি হওয়ার বিষয়টি তদারকি প্রতিষ্ঠানের বড় ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই এড়াতে পারেন না। আমরা দেখেছি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেশন কমিশনের (বিইআরসি) তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু কাগজে–কলমে দাম নির্ধারণের গৎবাঁধা দায়িত্ব পালন করে থাকে। কিন্তু সেই দাম বাজারে কার্যকর হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করে বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বা সক্ষমতা কোনোটিই দৃশ্যমান হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিঠি দিয়ে দায় সারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। এ অবস্থার পরিবর্তন আনা জরুরি। তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু দাম নির্ধারণ করবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রকৃতপক্ষেই দাম নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে সে বিষয়ে মনোযোগ বাড়াতে হবে। বাজারে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন অপতৎপরতা চালাতে না পারে সেজন্য সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। সরকারকে অবিলম্বে ভোক্তার ভোগান্তি দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে