সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটির ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। কোনো আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাস হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিল পাসের ফলে ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস অর্ডার, ১৯৭৩’ এর আর্টিকেল থ্রি সি বিলুপ্ত হল। খবর বিডিনিউজের।
এই ধারায় বলা ছিল, একজন সংসদ সদস্য তার পুরো মেয়াদকালে শুল্কমুক্তভাবে মূল্য সংযোজন কর, উন্নয়ন সারচার্জ এবং আমদানি পারমিট ফি ব্যতীত সরকার নির্ধারিত বিবরণ ও শর্ত অনুযায়ী একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন। আরও বলা ছিল, সর্বশেষ আমদানির তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আরেকটি নতুন গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির অধিকারী হবেন তিনি।
গতকাল পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, আইনটি দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ–সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ–সদস্যদের নিজের নামে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি একদিকে যেমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অন্যদিকে এ ধরনের শুল্কমুক্ত সুবিধা কর প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের মালিক জনগণের সাথে দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি করে। সেখানে বলা হয়, এই প্রেক্ষিতে মাননীয় সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ ওই সুবিধা বাতিলের জন্য আর্টিকেল থ্রিসি বিলুপ্তির উদ্দেশ্যে বিলটি আনা হয়েছে। বিলের কপিতে বলা হয়েছে, এটি একটি অর্থ বিল। সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপতির সুপারিশ পাওয়া গেছে।
সরকারি দল ও বিরোধী দল আগেই জানিয়েছিল, তারা কেউ শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবে না। ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন।
সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা স্বাধীনতার পর থেকেই ছিল না। ১৯৮৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনের পর এ সুবিধা যুক্ত হয়। ২০২৪ সালের বাজেটেও এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব এসেছিল। ওই সময় সংসদে কয়েকজন সদস্য আগের মতই বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানির সুবিধা রা














