বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা নিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করার প্রত্যয়ে এবার বাইসাইকেলে চড়ে নেপাল যাচ্ছেন কাপ্তাই উপজেলার বীর কুমার তনচংগ্যা। এর আগে তিনি ভারতের ১০টি রাজ্য বাইসাইকেলে চড়ে ভ্রমণ করেন। ৯০ দিনের সার্ক স্টিকার ভিসা নিয়ে তিনি আগামী ১৪ আগস্ট কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন বলে জানা গেছে। তার এই যাত্রার নাম হবে ‘সি টু হিমালয়াস’ অভিযান।
জানা গেছে, বীর কুমার তনচংগ্যা কক্সবাজার থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে নেপাল পৌঁছে বিশ্বের অন্যতম কঠিন চারটি ট্রেইল– মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প (এবিসি) এবং এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (ইবিসি) অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছেন। পুরো অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে বীর কুমার তনচংগ্যা বাংলাদেশের লাল–সবুজ পতাকা বহন করবেন।
জানা গেছে, কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নে বসবাসকারী বীর কুমার বাইসাইকেলে চড়ে ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণ করেছিলেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তিনি ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন এবং ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এছাড়াও বীর কুমার তনচংগ্যা সাইকেলে চড়ে বাংলাদেশের দীর্ঘতম ক্রস–কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত ভ্রমণ করেছিলেন। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা এবং দেশের প্রায় ৫৯০টি উপজেলা সাইকেলে পরিভ্রমণের গৌরবময় অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে বলে জানা গেছে।
বীর কুমার তনচংগ্যা বলেন, সাধারণত বাংলাদেশ থেকে অভিযাত্রীরা বিমানে চড়ে নেপাল গিয়ে সেখান থেকে সাইকেলে নেপাল অভিযান শুরু করেন। কিন্তু তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কঙবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে চড়ে স্থলপথে নেপাল পৌঁছে পুরো অভিযান সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছেন। তিনি বলেন, কঙবাজার থেকে তিনি যাত্রা শুরু করে প্রথমে রাজধানী ঢাকা হয়ে পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন শেষ করবেন। পরে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে নেপাল বর্ডার ক্রস করবেন।
সাইক্লিং করা ছাড়াও বীর কুমার তনচংগ্যা কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা এবং জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।










