এনসিপি প্রতিটি সেক্টরে একক প্রার্থী দিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে

চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে সারজিস

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান সরকারের ৬ মাসের কার্যক্রমে পূর্ববর্তী সরকারের ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, এনসিপি আগামীতে প্রতিটি সেক্টরে একক প্রার্থী দিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে।

গতকাল সোমবার বিকেলে নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দেশে চলমান জ্বালানি সংকট, শিডিউল লোডশেডিং, আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতির অবনতি, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট এবং নতুন পেস্কেল বাস্তবায়নে সরকারের টালবাহানা করছে উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়েব। বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার।

সারজিস আলম বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্য খাত ও রাস্তার বেহাল দশার কারণে সামান্য চিকিৎসার জন্যও মানুষকে ঢাকায় ছুটতে হচ্ছে। বর্ষা শেষ হতেই নীতিনির্ধারকেরা সব ভুলে যান, আর বর্ষা এলে শুরু হয় নাটক। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের যে বেতন দেওয়া হয়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তা দিয়ে ১৫ দিন চলাও সম্ভব হয় না। অথচ পেস্কেল বাস্তবায়নের নামে সরকারের পক্ষ থেকে টালবাহানা করা হচ্ছে। আগামী মাস থেকেই যেন নতুন পেস্কেল বাস্তবায়ন করা হয় আমরা সেই জোর দাবি জানাচ্ছি। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের অনিয়ম তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের প্রতিনিয়ত হেনস্তা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের নামে আবারও ২৫ জনের সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের যোগসাজশ রয়েছে।

সরোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই সংকট বাড়ে। সরকার নির্বাচনের আগে সংকট সমাধানের কথা বললেও ক্ষমতায় এসে হরিলুটের সূচনা করেছে। দেড় কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গত ১৮০ দিনে দেশের অধিকাংশ কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে ফিল্মি কায়দায় গেলেও পাশের রাউজানে প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন ও খুনাখুনির বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এছাড়া মতপ্রকাশে বাধা দিতে ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মনিটরিং যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে আওয়ামী পুনর্বাসন চলছে।

মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশনের আইন দুর্বল করা এবং ফ্যামিলি কার্ডে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সারোয়ার তুষার হুঁশিয়ারি দেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হলে সরকার পূর্ণ মেয়াদের আগেই জনরোষে পড়বে এবং প্রয়োজনে এনসিপি রাজপথে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় যুব শক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক আবু বকর মজুমদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ, এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজাউদ্দিন ও চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদীঘিনালায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক মাটির ঘর, ২৭৮ হেক্টর ফসল
পরবর্তী নিবন্ধ‘মা অসুস্থ, চিকিৎসা করাতে পারছি না’