জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের আয়কর আইন, ২০২৩–এর ১৪৭ ধারার আওতায় ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন এবং আর্থিক ও হিসাব সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের উদ্যোগ স্থগিত বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতারা। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
গত বুধবার এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এ দাবি জানান ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই), এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিসিআই, বিসিএমইএ, এমসিসিআই ও আইসিসি বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা।
চিঠিতে বলা হয়, ১৯ জুলাই এনবিআর আয়কর আইন, ২০২৩–এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন ও হিসাব–নিকাশের নথি যাচাই সংক্রান্ত যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তা ব্যবসায়ী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে ওই বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আইনের এ ধারার বাস্তব প্রয়োগ এখনো শুরু হয়নি এবং দেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ বিধান সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর উৎপাদন ও সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আকস্মিকভাবে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রতি ব্যবসায়ী সমাজের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে কর আদায়ে ভীতি নয়, বরং আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠন এবং ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনে ব্যবসা–বাণিজ্যের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজকে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ী নেতারা দাবি করেন, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী করপোরেট রেকর্ডের গোপনীয়তা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার স্বাধীনতা ও বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং সংবিধানের ৩১ ও ৪২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের শাসন ও নাগরিকের আইনগত অধিকারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আয়কর আইন, ২০২৩–এর ১৪৭ ধারার প্রয়োগ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
তারা অবিলম্বে ১৯ জুলাই জারি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত বা প্রত্যাহার করে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধান করার আহ্বান জানান। যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন এফবিসিসিআই সভাপতি আনোয়ার–উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদুল হাসান খান, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিসিএমইএ সভাপতি মইনুল ইসলাম, আইসিসি সভাপতি মাবুবুর রহমান, এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান।












