এখনো গতিহীন টেকনাফ বন্দরের আমদানি-রপ্তানি

নাফ নদী এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি

শাহেদ মিজান, কক্সবাজার | শুক্রবার , ১৯ জুন, ২০২৬ at ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বহু প্রতীক্ষার পর চালু হলেও কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বাণিজ্যে গতি ফিরেনি। বর্তমান সরকারের বদান্যতায় বন্দরটি চালুর দেড়মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোদমে সচল হয়নি। এখন যে লেনদেন চলছে তা অতীতের স্বাভাবিকতার তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ। এতে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা হতাশ। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও তলানিতে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে দীর্ঘ প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর গত ১ মে টেকনাফ স্থলবন্দর সচল করা হয়। তবে বন্দর সচল হলেও আমদানিরপ্তানি কার্যক্রম এখনো মাত্রাতিরিক্ত ধীরগতিতে চলছে। স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের সমন্বয়ে বন্দরটি পুনঃসচল হলেও বর্তমানে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে পণ্য আমদানি এখনো কার্যত বন্ধই রয়েছে। তবে রাখাইন রাজ্য থেকে সীমিত পরিসরে কাঠ আমদানি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। আমদানিরপ্তানির এই মাত্রা অত্যন্ত অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা মাহাবুব রহমান জানান, নাফ নদী এলাকায় আরাকান আর্মির সরাসরি হস্তক্ষেপ না থাকলেও পুরোপুরি বাধা কাটেনি। সে সঙ্গে ঝুঁকিরও আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বন্দরে আমদানিরপ্তানি ব্যবসা পুরো সচল হয়নি। এই পরিস্থিতি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ ইয়াঙ্গুনকেন্দ্রিক হওয়াকে দায়ী করছেন এই কাস্টমস কর্মকর্তা। এর ফলে বর্তমানে রপ্তানি তুলনামূলক বেশি হলেও আমদানি খুবই সীমিত।

তিনি জানান, গত মে মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৮১ লাখ ৮ লাখ টাকা। জুন মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত রপ্তানি আয় হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ২৪ দশমিক ৪০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এদিকে জুন মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত আমদানি রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হলেও এখনো আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কার্যক্রম কিছুটা সচল থাকলেও মিয়ানমার থেকে আমদানি খুবই সীমিত। তিনি বলেন, বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য থেকে অল্প পরিমাণ কাঠ আমদানি হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও চলমান অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখনো পুরোপুরি বাণিজ্য কার্যক্রমে ফিরতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ এখনো মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহরে আটকে রয়েছে। মূলত ইয়াঙ্গুন থেকেই অধিকাংশ আমদানি পণ্য আসত। বর্তমানে যে সীমিত পরিসরে আমদানিরপ্তানি হচ্ছে, তা মূলত রাখাইন রাজ্যকেন্দ্রিক।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নতুন করে সীমান্ত বাণিজ্য চালু হওয়ার পর গত দুই মাস ধরে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিরপ্তানি কার্যক্রম চলছে। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম অনেক কম, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ১০ ভাগ। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জেনেছি, আরাকান আর্মির বাধা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এরপরও ছোট ছোট ট্রলারের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে কাঠ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগে বড় বড় ট্রলারভর্তি মালামাল আমদানিরপ্তানি হতো। এখন ছোট ট্রলারের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে বাণিজ্য চলছে। তবে সামনে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমদানিরপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআট স্টলপোর্টকে বিমানবন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ
পরবর্তী নিবন্ধজনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে