এলএনজি সরবরাহের অভাবে বন্ধ থাকা এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের জন্য নতুন কার্গো আসতে পারে রোববার। ফলে এর আগে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহে বড় উন্নতির সম্ভাবনা নেই। পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) মো. শোয়েব গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য দেন। গ্যাস সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হতে পারে– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনালের জন্য পরবর্তী কার্গো রোববার আসবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্গো পৌঁছানোর পর এলএনজি খালাস ও গ্যাসে রূপান্তরের কাজও করতে হয়। এতে করে কার্গো আসার সঙ্গে সঙ্গেই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে, এমনটি নয়। খবর বিডিনিউজের।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সামিটের টার্মিনালের জন্য আনা একটি এলএনজি কার্গো ভিড়েছে। এতে এ টার্মিনালের এলএনজি মজুত বেড়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলেন, সামিটের টার্মিনাল আগে থেকেই সর্বোচ্চ সক্ষমতায় দৈনিক প্রায় ৫৭ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। নতুন কার্গো এলেও তা কাজে লাগানোর সুযোগ নেই।
এক্সিলারেটের টার্মিনালে বুধবার দুপুরের পর সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস দেওয়া বন্ধ হয়। সামিটের বাকি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ চালু রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। দেশীয় ক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ছিল ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। আগের দিন বুধবার একই সময়ে এলএনজি সরবরাহ ছিল ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট। এক দিনে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে মাত্র ৮০ লাখ ঘনফুট বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সেই হিসাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাহিদার ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ সরবরাহ করা গেছে। ঘাটতি ছিল ১৬০ কোটি ঘনফুট। দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত সরবরাহ সক্ষমতা দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট। বৃহস্পতিবারের সরবরাহ ছিল এ সক্ষমতার প্রায় ৫২ শতাংশ।
গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সেখান থেকে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়। এরপর কারিগরি সমস্যা ও কার্গোর স্বল্পতায় সেখানকার সরবরাহ কয়েক দফা ওঠানামা করেছে।
পেট্রোবাংলার ১৯ থেকে ২০ অগাস্টের ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে এলএনজি সরবরাহ দেখানো হয়েছে ৫৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। আগের ২৪ ঘণ্টায় তা ছিল ৬২ কোটি ৬৬ লাখ ঘনফুট। এ হিসাবে এলএনজির দৈনিক গড় সরবরাহ প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।
দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক গড় সরবরাহ ২২৬ কোটি ৩৮ লাখ ঘনফুট থেকে কমে ২২২ কোটি ৪৪ লাখ ঘনফুট হয়েছে। মোট সরবরাহ কমেছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ঘনফুট।












