এআই দিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভাইরাসের নকশা তৈরি

চিকিৎসাবিজ্ঞানে আশা, নিরাপত্তার শঙ্কা

| শনিবার , ৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ভাইরাসের নকশা তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিষয়টিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের বড় এ অগ্রগতি নতুন ওষুধের আশা জাগালেও এ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা নিয়ে তৈরি করেছে নতুন উদ্বেগ।

গবেষণায় তৈরি এসব ভাইরাস ‘ব্যাকটেরিওফেজ’ নামে পরিচিত। এগুলো কেবল ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াজনিত দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার সময় এআই ডিজাইন করা ভাইরাসের একটি মিশ্রণ বা ‘ককটেল’ ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের ‘ইকোলাই’ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ বা প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিওফেজও প্রতিরোধ করতে পারে। খবর বিডিনিউজের।

জিনোম ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ এআই মডেল ব্যবহার করে এ ব্যাকটেরিওফেজের জিনোম তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কেমিক্যাল প্রকৌশলী ড. ব্রায়ান হাই। এ বিশেষ ধরনের এআই মডেল বিভিন্ন এআই চ্যাটবটের পেছনের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের জিনগত রূপ। পরবর্তীতে এই নকশা অনুসারে ল্যাবে ভাইরাস তৈরি করে একটি পাত্রে রাখা ইকোলাই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্স’এ। গবেষণাপত্রটিতে গবেষকরা লিখেছেন, দ্রুত জিনোম ডিজাইন ও নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সেগুলোকে কার্যকর করার এই সক্ষমতা ফেইজ থেরাপিকে পুরোপুরি বদলে এবং বায়োটেকনোলজির কাজের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এর বৈপ্লবিক সম্ভাবনার পাশাপাশি সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েও সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, এ কাজ গুরুত্বপূর্ণ বায়োসেইফটি, বায়োকন্টেইনমেন্ট ও বায়োসিকিউরিটি সংক্রান্ত প্রশ্ন ও বিবেচনা সামনে নিয়ে এসেছে। সম্পূর্ণ জিনোম ডিজাইন বা নকশা করার কাজে নিয়োজিত অন্য গবেষকদের উদ্দেশ্যে তারা আহ্বান জানিয়েছেন, পুরো প্রকল্প চলাকালীন সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ জারি রাখা উচিত।

সহযোগী নিবন্ধে বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির অধ্যাপক টম ইঙ্গলসবি ও ড. মরিৎস হাঙ্কে সতর্ক করে লিখেছেন, এআই প্রাণ বিজ্ঞানের প্রয়োগে বেশ প্রতিশ্রুতিশীল। তবে একইসঙ্গে জরুরি বায়োসেইফটি ও সিকিউরিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ভাইরাসের জিনোম তৈরির সক্ষমতা এখন তৈরি হয়ে গেছে। তবে এআইকে নিরাপদে পরিচালনার মতো কোনো প্রশাসনিক ও আইনি নীতিমালা এখনো নেই।

. ব্রায়ান হাই ও তার সহযোগীরা নতুন এই ভাইরাসের জিনোম ডিজাইন করতে ‘ইভো১’ ও ‘ইভো২’ নামের দুটি এআই মডেল ব্যবহার করেছেন। প্রায় ২০ লাখ ব্যাকটেরিওফেজের জিনগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এআই মডেল দুটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে উদ্ভিদ, মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীকে আক্রমণ করতে পারে এমন ভাইরাসের জেনেটিক কোড সচেতনভাবেই প্রশিক্ষণের বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে মারাত্মক ও বিপজ্জনক কোনো ভাইরাস তৈরির ঝুঁকি কমানো যায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাইক্রোবাসের গোপন চেম্বারে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার ইয়াবা
পরবর্তী নিবন্ধরাঙামাটি শহরে নিবন্ধনবিহীন অটোরিকশার দৌরাত্ম্য