ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন

সাইফুল্লাহ্‌ কায়সার

রবিবার , ১০ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
97

ঈদ আরবী শব্দ। এর বাংলা অর্থ খুশি। আমরা যখন কোন কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কোনকিছু পাই। তখন আমরা খুব খুশি হই। আর খুশি হওয়াকে আরবীতে ঈদ বলে। ঈদের কোন নির্দিষ্ট দিন ও ক্ষণ নেই। যে কোন সময় খুশি উদযাপন করা যায়। আবার কিছু কিছু খুশি মানুষ নির্দিষ্ট দিনে উদযাপন করে। যেমন-বিজয় দিবস, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী, ইত্যাদি।
প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে আরবী রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মুসলিম সমপ্রদায় ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) পালন করে থাকেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) তিন শব্দের সমন্বয়ে গঠিত (ঈদ-খুশি, মিলাদ-জন্ম, নবী-নবী)। অর্থাৎ আমাদের নবী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (দ.) এর জন্মদিন করাকে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) বলে।
মুসলিম মিল্লাতের সুপ্ত সংস্কৃতির বিকাশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর অনুষ্ঠান একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। আল্লাহ্‌তায়ালা কোরআন মজিদে সূরা ইউনুছ ৫৮ আয়াতে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রতি বছর ঈদ ও পবিত্র আনন্দানুষ্ঠান পালনের কথা উল্লেখ করেছেন।সূরা বাকারাতে হযরত মূসা (আঃ) ও বনী ইসরাঈলগণের নীল নদের পার হওয়া এবং প্রতি বছর এ উপলক্ষে আশুরার রোযা ও ঈদ পালন করা এবং সূরা মায়েদায় হযরত মূসা (আঃ) ও বণী ইসরাঈলের হাওয়ারীগণের আকাশ থেকে আল্লাহ্‌ কর্তৃক যিয়াফত হিসেবে মায়েদা অবতীর্ণ হওয়া উপলক্ষে প্রতি বছর ওই দিনকে ঈদের দিন হিসেবে পালন করার কথা কুরআনে উল্লেখ আছে। এরশাদ হচ্ছে মারয়াম তনয় ঈসা আরয করলেন, হে প্রতিপালক! আমাদের ওপর আকাশ থেকে একটা খাদ্য-খাঞ্চা অবতরণ করুন। যা আমাদের জন্যে ঈদ (আনন্দ আর উৎসব) হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্যে এবং আপনারই নিকট থেকে নিদর্শন এবং আমাদেরকে রিযিক দান করুন, আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা। [মায়েদা-১১৪] বনী ইসরাঈলের ওপর আল্লাহর রহমত নাযিলের স্মরণে যদি প্রতি বছর ওই দিনে ঈদ পালন করা যায়, তাহলে আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত রাহমাতুল্লিল আলামীন (দ.)-এর শুভাগমন উপলক্ষে প্রতি বছর ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) পালন করা অধিক যুক্তিযুক্ত। হাদীসের সর্ববিশুদ্ধ কিতাব সহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে যে, প্রিয় নবীজী (দ.)কে এক সাহাবী জিজ্ঞেস করেছিলেন- ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ (দ.), প্রতি সোমবার আপনার রোযা রাখার কারণ কী? হুজুর পাক (দ.) উত্তরে ফরমালেন, এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই (সোমবার) ২৭ রমজান আমার ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এটাও মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনের উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

x