ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারল বাংলাদেশ

প্রথম টি-টোয়েন্টি

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার , ১৮ জুন, ২০২৬ at ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টিটোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টিটোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিতে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা। টস জিতে আগে ব্যাটিং করা টাইগাররা ১ ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। জবাবে ১০ বল হাতে রেখেই জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।

টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের নতুন টিটোয়েন্টি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। শুরুতে দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান রানের দেখা পেলেও সেটা বড় হয়নি। বরং আচমকা ব্যাটিং ব্যর্থতায় ডুবেছে বাংলাদেশ। দলীয় ২৬ রানের মাথায় বিদায় নেন ওপেনার তানজিদ তামিম। সাইফ কাটা পড়েন ৩৯ রানে। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর অধিনায়ক হৃদয়, সৌম্য, ইমন ও শামীম কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।

মাঝের ওভারগুলোতে অজি স্পিনাররা চাপ তৈরি করে টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত ছন্নছাড়া করে দেন। তাতে ৭৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়েন হৃদয়রা। এরপর অভিষিক্ত সাকলাইন একটি ছক্কা হাঁকিয়ে কিছুটা আশা জাগালেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শেষদিকে শেখ মেহেদী হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। মেহেদীর অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংস এবং মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের ছোট অবদান বাংলাদেশকে তিন অঙ্কের ঘর পেরোতে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। তিন উইকেট শিকার করেন তিনি। সমান তিনটি উইকেট নেন জুয়েল ডেভিস। এছাড়া রেনশো দুই, আর নিখিল ও জনসন শিকার করেন একটি করে উইকেট।

ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা অবশ্য আশাব্যঞ্জক ছিল না। মাত্র ১৩ রানের মাথায় জশ ইংলিসকে হারায় সফরকারীরা। ওয়ানডে অধিনায়ককে বোল্ড করেন পেসার শরিফুল। পঞ্চম ওভারে মোস্তাফিজের বলে মিচেল মার্শ আউট হলেও পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলে জয়ের ভিত গড়েন সফরকারীরা। এদিকে কুপার কনোলি প্রথম টিটোয়েন্টিতে করেছেন ২৭ বলে ৪৭ রান। ফিফটি না পেলেও দলের জয়ে ছিল তার বড় অবদান। তবে বাঁহাতি এই ব্যাটারকে আউট করে আন্তর্জাতিক উইকেটের যাত্রা শুরু করেন বাংলাদেশের আবদুল গাফফার সাকলাইন।

এক ওভারের ব্যবধানে বাংলাদেশের লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে। টিম ডেভিডকে ফাঁদে ফেলে লং অনে ক্যাচ বানান শেখ মেহেদী। এরপর অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরীকে রিশাদ এবং মন্থর গতির ব্যাটিং করা রেনশোকে ফেরান সাকলাইন। তবে এসব উইকেট কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১০ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন সাকলাইন। একটি করে উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী এবং রিশাদ হোসেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকাঁটাতারের বেড়া বসবে মিয়ানমার সীমান্তে, ভারত সীমান্ত বিবেচনায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধসরকারকে সময় দেওয়া যাবে না বলা দলের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী