ইউরোপে দেশে দেশে কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি, বাড়ছে বর্ণবিদ্বেষ

| সোমবার , ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ at ১২:০১ অপরাহ্ণ

ইউরোপে দেশে দেশে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য, নীতি ও রাজনৈতিক তৎপরতা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘৃণা, বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য এবং কঠোর নীতির দাবি এখন মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যা কট্টর ডানপন্থিদের প্রান্তিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হতো, তা এখন ইউরোপের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক বিতর্কে জায়গা করে নিয়েছে। গত বছর লন্ডনের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়। তাদের দেশে পাঠিয়ে দাও স্লোগানে মুখর এসব সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসনকে জাতীয় পরিচয়ের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। একই সময় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একাধিক রাজনীতিবিদ টেলিভিশনে অতিরিক্ত অশ্বেতাঙ্গ মুখ দেখা যাচ্ছে এমন মন্তব্য করে বিতর্ক উসকে দেন। এমনকি যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন বসবাসকারী, বিদেশে জন্ম নেওয়া নাগরিকদের বহিষ্কারেরও দাবি উঠেছে। এই প্রবণতা শুধু যুক্তরাজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি, ফ্রান্সের ন্যাশনাল র‌্যালি এবং যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকে দলগুলো জনমত জরিপে শীর্ষ বা কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এসব দল ব্যাপক বহিষ্কার নীতি ও কড়াকড়ি অভিবাসন আইনের পক্ষে সরব।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও নীতি ইউরোপের এই কঠোর মনোভাবকে উৎসাহিত করছে। সমপ্রতি অভিবাসনকে ইউরোপের জন্য সভ্যতাগত হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল এবং ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী মন্তব্য ইউরোপীয় কট্টর ডানপন্থিদের ভাষার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমঙ্গলে এখন কয়টা বাজে? অবশেষে সঠিক উত্তর মিলল
পরবর্তী নিবন্ধপশ্চিমাদের আশ্বাসে ন্যাটোয় যোগদানের আশা ছেড়ে দিলো ইউক্রেন