আসুন নিজেকে আয়নায় দেখি

মাহমুদা মৌ | মঙ্গলবার , ২৩ জুন, ২০২৬ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ

যে মানুষগুলো সৃষ্টির নেশায় মত্ত থাকে, যে মানুষগুলো কাজের নেশায় ব্যস্ত থাকে, যে মানুষগুলো সামাজিক কাজ করতে পেরে আনন্দ উপভোগ করে। যে মানুষগুলো নতুন কিছু সৃষ্টি করতে সবসময় ভবিষ্যৎমুখী কল্পনা ও উদ্ভাবনী চিন্তায় মশগুল থাকেন। সর্বোপরি যে মানুষগুলো ব্যস্ততাকে উপভোগ করতে জানেন তারা নিজেরা যেমন ভালো থাকে অপরকেও ভালো রাখে এবং থাকতে শেখায়। তারা জানে কিসে একটা মানুষ খুশি হবে আর কী বললে অন্যকে ছোট করা হবে আর কী বললে হার্ড করা হবে। কারণ প্রতিদিন ওনারা এতো সহজমনা সরলমনা শিল্পমনা মানুষের সাথে মেশে সেখান থেকে মন্দটুকু একপাশে সরিয়ে রেখে ভালোটুকু ছেকে তুলে আনে। লেখক শিল্পীরা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করতে জানে না। তারা শুধু ভালো কিছু সৃষ্টি করতে পারলেই এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করে আর সেই সময়টুকু উপভোগ করে। হঠাৎ করেই সহলেখকদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠে আর ফেরার সময় পর্যাপ্ত অক্সিজেন সংগ্রহ করে নিয়ে ফেরে। সেখানে টাকা পয়সার দরকষাকষি হয় না। তারা এক কাপ চা ভাগাভাগি করে খায় কিন্তু তখন তাদের ভেতরের উদ্দীপনা দেখলে মনে করবেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ তারা। অপর দিকে কিছু মানুষ সারাটা জীবন শুধুই টাকার পেছনে ছোটে। এরা শুধু টাকা গুনে সুখ পায়। একবার না বার বার গোনে। সেই টাকা বাক্সবন্দী করে রাখে যদি সংখ্যায় বাড়ে তাহলে চোখ চিকচিক করে ওঠে (যদিও বাড়ে না)। আর যদি অসুখে বিসুখে অথবা শপিং করতে খরচ হয়ে যায় তাহলে তার আত্মা কেঁদে ওঠে। ইশ্‌ রে আমি এক কাপ চা না খেয়েও টাকা জমিয়েছিলাম সেই টাকা খরচ হয়ে গেলো। অবশ্য এর ব্যতিক্রমও আছে কিছু নিবেদিত প্রাণ আছেন। তারা শুধু টাকা রোজগার করে না তারা চুপিচুপি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোর হাসিমুখ দেখে তাদের আত্মতৃপ্তি হয় এবং এটা এক সময় এক ধরনের নেশায় পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে তারা এতো আত্মতৃপ্তির কাজের সাথে জড়িয়ে যায় যে নিজের জন্য সময় বলতে কিছুই থাকে না বা রাখে না কিন্তু এ নিয়ে তাদের ভেতর আফসোস হয় না কারণ তারা এই কাজটাকে ভালোবাসে। এদেরকে বলা হয় ওয়ার্কহোলিক অর্থাৎ অতিরিক্ত কাজ করতে পছন্দ করেন, কাজ ছাড়া অহেতুক সময় কাটাতে পারেন না। আসলে সৃষ্টিশীল হোক আর উদ্যমী কর্মী হোক যারা কাজকে ভালোবাসে তারা মানুষকে সম্মান দিতে জানে আর যারা অলস সময় কাটায় তাদের এলোমেলো মস্তিষ্ক অনেক সময় নিজের অজান্তেই প্রতি পদে পদে মানুষের ভুল ধরার চেষ্টা করে, উপর্যুপরি অপদস্ত হেয় প্রতিপন্ন করে এক ধরনের শান্তি অনুভব করে এবং এর জন্য সরি বলা বা অনুশোচনা বোধও তাদের ভেতর জাগ্রত হয় না।

আমার কাছে মনে হয় দুনিয়ার সবাই আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে পেলেও এই মেন্টালিটির মানুষগুলোর আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে পায় না।

তাই আসুন সবাই নিজেকে আয়নায় দেখি। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং মনের ভেতরের অনেক অব্যক্ত কথা অজান্তেই বের হয়ে আসে, নিজের ভুল বুঝতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপেমেন্ট ও প্রিপেইড মিটার সমস্যার সমাধান চাই
পরবর্তী নিবন্ধকর্মস্থলের পরিবেশ মানসিকতার ওপর প্রভাব ফেলে