বান্দরবানে আলীকদম উপজেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নেওয়ার পথে গত বুধবার ভোরে হামে আক্রান্ত শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ হানিফ নিশ্চিত করেছেন।
মৃত তুমমুম ম্রো সীমান্তবর্তী এলাকা কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রুইতং পাড়ার বাসিন্দা পাংসং ম্রোর মেয়ে। তুমমুম ইয়াংরিং মাংক্রাত পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণি শিক্ষার্থী ছিল। সে ওই ওয়ার্ডের পোয়ামুহুরী এলাকায় ‘প্রেন্নই শিক্ষালয়’ নামে একটা ম্রো আবাসিক ছাত্র হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করত। প্রেন্নই শিক্ষালয়ের পরিচালক উথোয়াইংগ্য মারমা বলেন, হোস্টেলে ১৪৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকদিনে প্রায় ৬০–৭০ জনের হামের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তার মধ্যে অধিকাংশ প্রাথমিক চিকিসা নিয়ে বিশ্রামে আছে। তিনজন শিশু প্রথমে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ ভর্তি করা হলেও জায়গার অভাবে পরে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে রেফার করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে বর্তমানে ১৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন আছে। এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থা এত গুরুতর নয়। তারা ভাল আছে এবং চিকিৎসা চলছে। তবে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শুনেছি, দুর্গম কুরুকপাতা এলাকায় আরও আক্রান্ত শিশু থাকতে পারে। বেশি গুরুতর হলে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এখানে নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, কুরুকপাতা ইউনিয়নে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যে এলাকাটা আছে সেটা সীমান্তবর্তী এলাকা, একদম মিয়ানমারের পাশে। শনিবারে সেখানে ক্রাশ প্রোগ্রামের জন্য পাঠাচ্ছি। তখন বাস্তব চিত্র জানা যাবে। এর আগে ওই এলাকায় যাদেরকে পাঠানো হয়েছে তাদের মাধ্যমে জানলাম, সেখানে আক্রান্ত সংখ্যা ভালই আছে। মনে হয়, সামনে আক্রান্ত সংখ্যা আরও আসতে পারে। কুরুকপাতা এলাকা থেকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে আসা মেনথাব ম্রো নামে একজন বলেন, বুধবার দুপুর পর্যন্ত প্রথমে ১৪ জন শিশু ভর্তি ছিল। বিশ মিনিটের ব্যবধানে আরও নয়জন শিশুকে ভর্তি করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের বয়স এক থেকে দশ বছর পর্যন্ত। মায়ের কোলে করে নিয়ে আসা ছয়–সাত মাসের এক শিশুও রয়েছে। হামে আক্রান্তদের বিষয়ে জানতে চাইলে কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, গত কয়েকদিনে শুধু রিংলতপাড়া নামে এক পাড়ায় ১২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে ওই পাড়ায় হামের লক্ষণ নিয়ে দুই শিশু মারা যায়। আরও অনেকে আক্রান্ত আছে। আক্রান্তরা দুর্গম এলাকা হওয়ায় তারা বেশি গুরুতর না হলে ভর্তি হতে আসে না। আপাতত প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আছে তারা।
লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকতা (আরএমও) সোলায়মান আহমেদ বলেন, তাদের হাসপাতালে ছয়জন হামে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। তার মধ্যে আলীকদমের কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী থেকে আসা চার জন। বাকি দুজন লামার বাসিন্দা। তিনি বলেন, তাদের যে শারীরিক অবস্থা, এখন পর্যন্ত রেফার করার মত না। ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। আবার খুব বেশি ভালও না। অবস্থা বেশি খারাপ হলে রেফার করে দেওয়া হবে। এখানে স্থানীয়ভাবে যারা আছে তারা সচেতন। একটু হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকে। দুর্গম এলাকারা বাসিন্দারা গুরুতর না হলে সহজে আসে না।













