আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকে রাউজানে নাছির হত্যাকাণ্ড

রাউজান প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

রাউজানে প্রায় দুই বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। দুই গ্রুপই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এরমধ্যে রায়হান বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অনুসারী হিসাবে পরিচিত, বিপরীতে জানে আলম প্রকাশ আলমের অবস্থান বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারের পক্ষে।

চলে আসা এই বিরোধ থেকে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বহুবার মুখামুখি হয়েছে। তাদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে এই পর্যন্ত মারা গেছে চার বিএনপি নেতা কর্মী। সর্বশেষ গত রোববার রাতে মারা যাওয়া নাছিরকে তার প্রতিপক্ষরা বছর খানেক আগেও কুপিয়ে মারার চেষ্টা করেছিল। তখন তিনি গুরুতর আহত হলেও সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যায়। জানা যায়, নাছির পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি। তিনি পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতে আশ্রয়স্থল হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন গ্রামের পূর্বপাশে অবস্থিত পাহাড়ের ভিতর। সব সময় পাহাড়ের আশপাশে থেকে নিজের লোকজন দিয়ে বালু মাটির ব্যবসা করাতেন। জড়িত ছিলেন এলাকার সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপের সাথে। অপরদিকে এলাকার বালু মাটির ব্যবসা ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৎপর আছে কদলপুরের দক্ষিণাংশে থাকা জানে আলম প্রকাশ আলম নামের আরেক সন্ত্রাসী গ্রুপ। নিহত নাছিরের স্বজনদের দাবি, রোববার রাতে আলম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা হঠাৎ আক্রামন চালিয়ে নাছিরকে হত্যা করেছে।

নাছিরের জীবন কাহিনী বর্ণনা দিয়ে স্থানীয়রা বলেন, প্রথম দিকে তার জীবন কাটে দিন মজুরি কাজ করে। মাঝখানে চলে যায় মধ্য প্রাচ্যে। ২৩ সালে প্রবাস থেকে ফিরে আবারও দিন মজুরি করে। ২৪ সালে রাজনৈতিক পেক্ষাপট পরিবর্তন হলে তিনি সক্রিয় হয় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনীতিতে। তখন থেকে এলাকার আধিপত্য বিস্তারের সক্রিয় হয়। বালুমাটির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ভিতরে ভিতরে রায়হান গ্রুপের সাথে যোগ দিয়ে এলাকায় নানা অপরাধে জড়ায়। এলাকাবাসী বলছে, পাহাড় পাদদেশে অস্তানা গড়ে উঠা দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রতিনিয়ত গোলাগুলির ঘটনা সর্বত্র আলোচিত হলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মধ্যে তৎপর হলে দুই গ্রুপই পাহাড়ের ভিতর আত্মগোপন করে। পরে সুযোগ বুঝে স্বদলবলে এসে নাছিরের মতো একজনকে হত্যা করে চলে যায়।

উল্লেখ্য যে, সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত নাছির উদ্দিনের লাশ গতকাল সোমবার রাতে সমশেরনগর গ্রামে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। এর আগে লাশের ময়না তদন্ত করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে। রাউজানে গত ২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে এই পর্যন্ত ২৩ জন খুন হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালু
পরবর্তী নিবন্ধজঙ্গল সলিমপুরের ১৮ মামলার আসামি মনা গ্রেপ্তার