৮ই অক্টোবর মহান বিশ্ব লায়ন্স সেবা দিবস– ২০২৬। ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সেবা সংগঠন। এক সময় বলা হত বৃটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্তমিত হয় না। বর্তমানে লায়নরা গর্বের সাথে উচ্চারণ করেন ‘লায়ন সাম্রাজ্যে সূর্য অস্তমিত হয় না’। তার কারণ পৃথিবীতে লায়নইজম এত বেশি বিস্তার লাভ করেছে যে, প্রতি মুহূর্তে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সেবা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। পৃথিবীতে এক গোলার্ধ্বে যখন দিন অপর গোলার্ধে তখন রাত অর্থাৎ দিন রাত প্রতিটি মুহূর্তে পৃথিবীতে লায়ন্স এর মাধ্যমে সেবা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
পৃথিবীর মানুষে মানুষে সমঝোতার মনোভাব সৃষ্টি ও লালন। সৎরাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সুনাগরিকত্বের আদর্শের বিকাশ সাধন। জনগণের নাগরিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও নৈতিক উন্নতি বিধানে সক্রিয় আগ্রহ প্রদর্শন। লায়ন্স ক্লাবসমূহকে সুসম্পর্ক, সমপ্রীতি ও সমঝোতার বন্ধনে একত্রিত করা। জনস্বার্থ জড়িত সকল বিষয়ের মুক্ত আলোচনার ক্ষেত্র সৃষ্টি করা। তবে ক্লাব সদস্যগণ দলীয় রাজনীতি ও সমপ্রদায়ভুক্ত ধর্র্মীয় বিষয় নিয়ে বিতর্কে জড়িত হবেন না। সেবাব্রতী লোকদের ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের বিবেচনা ব্যতিরকে সমাজ সেবায় উৎসাহ প্রদান করা এবং ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্প, বৃত্তি জীবন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্রিয়াকর্ম ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে দক্ষতার উন্নয়ন ও উচ্চ নৈতিক আদর্শের বিকাশ।
বিশ্বের মাঝে লায়ন ইজম: ১৯১৭ সালের ৭ই জুন আমেরিকার শিকাগো শহরের বীমা কর্মকর্তা স্যার মেলভীন জোন্স এর নেতৃত্বে অরাজনৈতিক ও অসমপ্রদায়িক সেবা সংগঠন লায়ন্স ক্লাবস্ ইন্টারন্যাশনাল এর জন্ম হয়। ১৯১৭ সালের ৮ই অক্টোবর লায়নবাদের উদ্দেশ্যাবলী, নীতিমালা ঘোষণার মাধ্যমে ২২টি ক্লাবের সমন্বয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক লায়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল শিকাগো শহরের লাসিলি হোটেলে। সেই সম্মেলনে ৯টি অঙ্গরাজ্যে থেকে ২২টি ক্লাবের ৩৬জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে এই ৮ই অক্টোবর সারা বিশ্বের লায়ন সেবা দিবস হিসাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। আজ থেকে সুদীর্ঘ ১০৯ বছর পূর্বে লায়নইজম নামে সে সেবার বীজ বপন করা হয়েছিল, কালের পরিক্রমায় সেই বীজ থেকে চারা অঙ্কুরিত হয়ে বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। ১৯১৭ সালে ৮ই অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ড. উইলিয়াম পি উডস্ প্রেসিডেন্ট এবং স্যার মেলভীন জোন্স কার্যকরী সচিব নির্বাচিত হন। ১৯২৫সালের লায়ন্স ইন্টারন্যশনাল কনভেনশানে বিশ্বখ্যাত সমাজসেবী হেলেন কেলার যোগদান করেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে লায়ন সদস্যরা সারা বিশ্বের অন্ধত্ব নিবারনে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেন।
১৯৫০ সালের মধ্যভাগে লায়ন্সক্লাব ইউরোপ, এশিয়া ল্যাট্রিন আমেরিকা আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে বিশ্বের ২১৪টি দেশের ৫০৫৫৫ টি ক্লাবের ৮৮৪ লায়ন্স জেলায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে ১৪ লক্ষ এর বেশী লায়ন্স সদস্যদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মানব কল্যাণমূলক সেবাকর্ম পরিচালনা করে চলেছে। আন্তর্জাতিক সদর দপ্তরটি আমেরিকার ইলয়নয়েস অঙ্গরাজ্যের অর্র্করুতে অবস্থিত।
‘কমিটমেন্ট’ আমরা লায়ন সদস্যরা জীবনের অর্ঘ্য সাজাই আশার কুসুমে, স্বপ্নের বুননিতে গড়ি অনাগত জীবনের নকশীকাথাঁ। বিগত দিনের জীর্ণতার নাগপাশ ছিন্ন করে অনাগত দিনের রক্তিম সূর্যের উষ্ণ আলিঙ্গনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রতিকূলতা অক্টোপাসের মত সহস্র বেষ্টনীতে ঘিরে আছে আমাদের সমাজকে। আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় হোক মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত যুব সমাজ প্রতিষ্ঠা করে ফুলের মত সুভাসিত জীবন গড়ি। গভীর ধ্বংস স্তূপের মাঝে দাঁড়িয়েও আমরা নির্মাণের কঠিন শপথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সকল আধাঁর সরিয়ে আলোকিত ঝরনাধারার ধুঁইয়ে দিয়ে শান্তির নীলাকাশ প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার গ্রহণ করতে হবে লায়নদের। সকল ভালোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান আর অসুন্দরের প্রতি ক্ষমাহীন সংগ্রাম আমাদের। মনে রাখতে হবে এই বিশ্বে যা কিছু ভালো তা বিশ্বের সকল মানুষের অধিকার। এই অধিকার আদায়ের নাম হোক লায়নইজম। আমরা এমন একটি দিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন স্বপ্নের পাখীরা নীড় খুঁজে পাবে, চিকিৎসাহীন মৃত্যু করবে না যখন উপহাস, দুস্থের মুখে হাসি আর অন্ধের চোখে আলো সেদিন থাকবে নিশ্চিত। আত্ম সচেতন ব্যক্তি ও জাতিই পারে বিশ্বের মাঝে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে। এই জন্য যে উপকরণের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হচ্ছে নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা, মহতী উদ্যোগ ও সুষ্ট পরিকল্পনা। আমাদের একান্ত বিশ্বাস বাংলাদেশের লায়নরা প্রিয় প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বের মানচিত্রে স্থায়ী রূপ দিতে সক্ষম হবেন। আমাদের লায়ন ভাই– বোনেরা সুশিক্ষা গ্রহণ, সৎচরিত্র গঠন ও আর্তমানবতার সেবায় অংশগ্রহণ করে আগামী দিনের আলোকিত মানুষ হিসাবে নিজেদের গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবেন। বর্তমান সেবা বর্ষে (২০২৬–২৭) এর ইন্টারন্যশনাল প্রেসিডেন্ট MARK S.LYON । তিনি ডাক দিয়েছেন “ROOTED IN SERVICE”
লায়ন মাল্টিপল জেলা ৩১৫ বাংলাদেশের এই সেবা বর্ষে নের্তৃত্ব দিচ্ছেন লায়ন মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ অপু–পি.এম.জে.এফ লায়ন্স জেলা ৩১৫–বি–৪ (২০২৬–২৭) সেবা বর্ষে জেলা গভর্নর হিসাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লায়ন মোঃ কামরুজ্জান লিটন– এম.জে.এফ। তাঁর ডাক “COMMITMENT” ১ম ভাইস জেলা গভর্নর পদে লায়ন মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক– পি.এম.জে.এফ ২য় ভাইস জেলা পদে লায়ন পারভীন মাহমুদ এফ.সি.এ.পি.এম.জে.এফ কেবিনেট সেক্রেটারী পদে লায়ন বেলাল উদ্দিন চৌধুরী –এম.জে.এফ ও লায়ন মোঃ জিল্লুর রহমান এম.জে.এফ কেবিনেট ট্রেজারার পদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া জেলা গভর্নরকে সহায়তা করার জন্য GAT TEAM DGO’S TEAM সর্বদা তৎপর রয়েছেন।
পরম সম্মানিত জেলা গভর্নর লায়ন মোঃ কামরুজ্জান লিটন– এম.জে.এফ এর যুগোপযোগী ডাক COMMITMENT সফল বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে।
লেখক: লায়ন্স জেলা ৩১৫–বি–৪ বাংলাদেশ রিজিয়ন চেয়ারপার্সন হেড কোয়ার্টার, চিকিৎসক, সমাজকর্মী।










