অহেতুক প্রকল্প নয়, পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে

পর্যালোচনা সভায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

| মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের চাষাবাদ ও দৈনন্দিন জীবনে পানির সংকট একটি বড় সমস্যা। রাঙামাটির দুর্গম এলাকায় ১২০০ ফুট নিচে নেমে স্বাধীনতাপরবর্তী সময় থেকে নারীদের খাবার পানি সংগ্রহের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি জানার সাথে সাথেই রাঙামাটির মুখ্য নির্বাহীকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তাদের এ দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব সম্ভব হয়েছে। অতীতে প্রকল্প গ্রহণ করেও কাজ না করার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, অহেতুক অতিরিক্ত প্রকল্প না নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এমন বাস্তবসম্মত প্রকল্প আমাদের গ্রহণ করতে হবে। ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে গতকাল সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬২৭ অর্থবছরের চলমান ও ‘সবুজ পাতা’য় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহের এক পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। এ সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি। পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। কৃষি ও ফল প্রসেসিংসহ অর্গানিক ফলের বাগান বাড়ানো, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিংএর ব্যবস্থা করা, যা স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী। পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলার পাড়াকেন্দ্রের নারীদের জন্য ওয়াশরুম সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পাড়াকেন্দ্রের বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের জন্য সামাজিক ও শিক্ষামূলক পরিবেশ গড়ে তোলাসহ মডেল পাড়াকেন্দ্র তৈরির মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের প্রকল্প গ্রহণ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। পার্বত্য চট্টগ্রামে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে রেকর্ড করা ক্লাসের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষকের অভাব পূরণ করা সম্ভব হবে। এ ধরনের উদ্যোগ সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি এবং টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। তিনি এসডিজি (ঝউএ) লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্টদের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তত ৫টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করার অনুরোধ করেন। সভায় প্রকল্পসমূহের মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ডিসপ্লে ও বিস্তারিত উপস্থাপনা পরিচালনা করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাহাড়তলীর ওরশ বাড়ি রেস্টুরেন্টকে জরিমানা
পরবর্তী নিবন্ধসর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের বিধান রেখে গুম আইনের খসড়া অনুমোদন