সাতকানিয়া উপজেলায় চিকিৎসক পরিচয়ে ইউনানী ওষুধ বিক্রির অভিযোগে চার ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটকৃতদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির বেশি নয় বলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে উপজেলা প্রশাসন। খবর বাংলানিউজের।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আটকৃতরা হলেন– জামালপুর জেলার সদর উপজেলার মুসলিমাবাদ এলাকার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ ইনসান ও মোহাম্মদ আকিরুল ইসলাম। স্থানীয়রা জানান, আটক চার ব্যক্তি দুপুর থেকে কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় ঘুরে নিজেদের অভিজ্ঞ ইউনানী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে অস্থায়ীভাবে চেম্বার বসান। তারা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ করে নারী, প্রবীণ ও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্থায়ীভাবে রোগমুক্তির আশ্বাস দিয়ে ইউনানী ওষুধ বিক্রি করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের কার্যক্রম সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা চিকিৎসক পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসা পেশায় কাজ করার বৈধ নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখতে চান। তবে তারা কোন মেডিকেল সনদ, পেশাগত নিবন্ধন নম্বর কিংবা সরকারি অনুমোদনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা চারজনকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক যাচাইয়ে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা স্বীকৃত কোনো চিকিৎসক নন। তাদের কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির বেশি নয় বলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে ইউনানী ওষুধ বিক্রি করে আসছিলেন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহামুদুল হাসান বলেন, আটকৃতদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চিকিৎসক পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই–বাছাই শেষে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।












