চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির খোঁজে যেতে হচ্ছে অনেক পথ। আর এসব উপজেলায় ভূ–গর্ভস্ত পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় প্রতিটি টিউবওয়েল বা নলকূপে সুপেয় নিরাপদ পানির পেতে ৭শ থেকে ৮শ ফুট গভীরে যেতে হচ্ছে। যুক্ত করতে হয় বৈদ্যুতিক পাম্প।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় পানির স্তর কমে যাওয়া ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল স্থাপিত ৬৫ হাজারের বেশি নলকূপের মধ্যে সাড়ে ৬ হাজারের মতো নলকূপ অকেজো অবস্থায় রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখন চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চলে গভীর নলকূপ থেকে আগের মতো স্বাভাবিক পানি ওঠে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বসানো গভীর নলকূপগুলো থেকে সুপেয় নিরাপদ পানির জন্য ৭শ থেকে ৮শ ফুট গভীরে যেতে হচ্ছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, ব্যক্তি উদ্যোগে নলকূপ বসানো হলেও কম গভীরতার কারণে আর্সেনিকের ঝুঁকি রয়েছে।
এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস আজাদীকে জানান, চট্টগ্রামের উপজেলা গুলোতে দিনদিন পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। আগে ৪শ’–৫শ’ ফুটে ভালো পানি পাওয়া যেতো। এখন ৮শ’ ফুটের মতো গভীরে যেতে হয়। আনোয়ারাসহ প্রায় উপজেলায় ৮০০ ফুট গভীরে যেতে হয়–সুপেয় পানির জন্য। চট্টগ্রামের বরাদ্দের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস জানান, চট্টগ্রামে আগে প্রতি বছর আড়াই হাজারের মতো গভীর নলকূপের বরাদ্দ পাওয়া যেতো। গত দুই–তিন বছরে তা কিছুটা কমেছে। এবার পুরো চট্টগ্রামের জন্য মাত্র ১৬শ’ এরমতো নলকূপ এসেছে। পানির চট্টগ্রামের উপজেলা গুলোতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সব মিলে ৬৫–৬৬ হাজারের মতো নলকূপ রয়েছে বলে জানান তিনি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপজেলা প্রকৌশলীরা জানান, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় শিল্প কারখানাগুলো বেপরোয়াভাবে বৈদ্যুতিক পাম্পের মাধ্যমে গভীর নলকূপ বসিয়ে ভূ–গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে এসব এলাকার আশেপাশে পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। যার ফলে গ্রামঞ্চলে দিন দিন পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় চট্টগ্রামে হাজার হাজার নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে এসব এলাকার নলকূপ গুলোতে আগের মতো পানি পাওয়া যায়না। যার ফলে সারা বছরই পানীয়জলের তীব্র অভাব দেখা দেয়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলায় এর মধ্যে অকেজো নলকূপ রয়েছে ৬ হাজার ৫৮৯টি। এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অকেজো হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি নলকূপ অকেজো রয়েছে ১ হাজার ৭৮৫টি সন্দ্বীপে। অন্য উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ডে ৭৪৭টি, পটিয়ায় ৫৭৭টি, লোহাগাড়ায় ৫৯৪টি, আনোয়ারায় ৪৯৯টি, বাঁশখালীতে ৪২৬টি ও রাউজানে ৪০২টি অকেজো নলকূপ রয়েছে।










