২০২৭ সালের শুরুতেই ওয়াসার পানি পাবে পতেঙ্গাবাসী

পাইপলাইন স্থাপনে কর্ণফুলী টানেল ব্যবহারে সেতু বিভাগের প্রাথমিক সম্মতি

শুকলাল দাশ | শনিবার , ১৩ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম ওয়াসার বোয়ালখালী উপজেলার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ২ কোটি লিটার পানি কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নগরীর পতেঙ্গা এলাকার তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানষ দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে ওয়াসার সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। আবেশেষে পতেঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির অভাব পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে (২০২৭ সালের শুরুতেই) পতেঙ্গা এলাকায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম।

দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইন জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি পৌঁছায়নি। এই তিন ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস। চট্টগ্রাম ওয়াসা ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে এই তিন ওয়ার্ডে সুপেয় পানির সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।

পতেঙ্গা এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা ১০ কোটি লিটার। কিন্তু বর্তমানে ওয়াসা সেখানে মাত্র ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে। অন্যদিকে, বোয়ালখালী উপজেলার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬ কোটি লিটার। বর্তমানে আনোয়ারা, পটিয়া, কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী এলাকায় এই প্রকল্পের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে ২ কোটি লিটার পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহ করা হবে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম গতকাল আজাদীকে বলেন, আমাদের চট্টগ্রাম ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোগদানের পর উনার প্রথম ভিশন হিসেবে পতেঙ্গা এলাকায় ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহের এই উদ্যোগ নিয়েছেন। কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে প্রতিদিন অন্তত ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহ করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ওই এলাকার মানুষের পানির অভাব অনেকাংশে দূর হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি নথিতে দেখা যায়, গত ৩ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। ওই চিঠিতে তিনি কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি চেয়েছেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহারের জন্য সেতু বিভাগ থেকে প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে। ভান্ডালজুড়ি থেকে আনোয়ারা সিইউএফএল পর্যন্ত আমাদের পানির কানেকশন করা আছে। সিইউএফএলএর অংশ থেকে সংযোগ দেয়া হবে।

পাইপ লাইনের অর্থায়নের ব্যাপারে প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য যে অর্থ ব্যয় হবে তা আমাদের বিশ্ব ব্যাংকের একটি চলমান প্রকল্পের আওতায় করা হবে। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চট্টগ্রামে পানি সরবরাহ উন্নয়নে এ প্রকল্পে রয়েছে নগরীতে ৩০০ কিমি পাইপ লাইন ও চট্টগ্রাম ওয়াসার ১ লাখ গ্রাহকের মাঝে ডিজিটাল মিটার স্থাপন। বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পের পরামর্শক এবং ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন পরামর্শক নিয়োগের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। আগামী চার মাসের মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ হবে। ২০২৭ সালের শুরুতেই আমরা বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবো।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প২ এর অধীনে নগরীতে মোট ৮০০ কিলোমিটার পুরনো পাইপ তুলে নতুন পাইপ (ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন লাইন) বসানো হয়েছিল। কিন্তু নগরীর পতেঙ্গা, খুলশী, এ কে খান, বায়েজিদ, অঙিজেন, কালুরঘাট ও চাক্তাই এলাকায় পুরাতন জরাজীর্ণ পাইপ, লিকেজ, ম্যানুয়াল মিটারিং ব্যবস্থার কারণে বিদ্যামন ৪০ হাজার সার্ভিস কানেকশনে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষম চাপে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। উক্ত এলাকাসমূহে সুষম পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং পানির অপচয় রোধ করে রাজস্ব বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নগরীতে ৩০০ কিলোমিটার নতুন পাইপ লাইন প্রতিস্থাপন, ১ লাখ অটোমেটেড স্মার্ট মিটারিংসহ ডিএমএ ব্যবস্থা প্রবর্তন করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে (৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা) চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিশ্বে প্রতি ৭০ জনের মধ্যে একজন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা