মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ–টেকেরহাট সড়কটি দীর্ঘ দুই দশক ধরে ভাঙাচোরা ও গর্তে ভরা অবস্থায় পড়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচল হলেও দুর্ভোগ কমেনি। অবশেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে সড়কটি সংস্কারের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তবে এখনো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি উপজেলার জোরারগঞ্জ, ওচমানপুর ও ইছাখালী ইউনিয়নের মানুষের প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। একই সঙ্গে এটি সোনাগাজীর সংযোগ সড়ক এবং দেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চলেরও গুরুত্বপূর্ণ রুট। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত সরকার আমলে কয়েকবার সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের কাজের কারণে সড়কটি কয়েক মাসের বেশি টেকেনি। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে সেগুলো ছোট পুকুরের মতো দেখায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক দিয়ে বাস, ট্রাক, পিকআপ, অ্যাম্বুল্যান্স, মাইক্রোবাস, স্কুলবাস ও সিএনজি টেক্সি চলাচল করছে। তবে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনুর ইসলাম স্বপন বলেন, এ সড়ক দিয়ে চট্টগ্রামের বৃহৎ মৎস্য অঞ্চল মুহুরী প্রকল্পসহ চারটি ইউনিয়ন ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে এ সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
মৎস্যচাষি জয়নাল হোসেন বাপ্পী বলেন, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে সময়মতো আড়তে মাছ নেওয়া যাচ্ছে না। এতে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি টেকসইভাবে সড়ক সংস্কারের দাবি জানান। ভ্রমণে আসা তাছলিমা চৌধুরী বলেন, মুহুরী প্রকল্প একটি সুন্দর পর্যটন এলাকা। কিন্তু সড়কের কারণে সেখানে যেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষ আগ্রহ হারাবে।
মীরসরাই থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, শপথ নেওয়ার পর এলাকার মানুষের দুর্ভোগ দেখে তিনি বিব্রত হয়েছেন। গত ২৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি সড়কটি সংস্কারের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংসদে বলেছেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় মুহুরীগঞ্জ–চট্টগ্রাম বেড়িবাঁধ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে সড়কটির উন্নয়নে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করতে ঠিকাদারদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।













