হালদা নদী রক্ষায় সরকার সচেষ্ট

চট্টগ্রামে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ৩ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, নদীতীরের কোনো কল–কারখানা নদী দূষণের চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ সম্পদ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু খামারিদের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে কর্মকর্তাদের প্রতি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এইখাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয়ভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস হচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ খাতকে রপ্তানিমুখী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরও সুযোগ রয়েছে। এজন্য খামারি, উৎপাদক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

পোল্ট্রি খাত প্রসঙ্গে টুকু বলেন, খামারে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। খামারের পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনিয়ন্ত্রণ, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং মানসম্মত খাদ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাণিসম্পদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উন্নতমানের ফিড সরবরাহ ও ফিডের মান তদারকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য পাবেন, অন্যদিকে খামারিরাও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে লাভবান হতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্ষুদ্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদেরও কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খামারিরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা, উৎপাদন উপকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হলে খামারিরা আরও কার্যকরভাবে উৎপাদন করতে পারবেন। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মান, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকর্ণফুলীতে দুদিনের ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাবাজারে রেলের পরিত্যক্ত বগিতে আগুন