নগরীর সড়কের ডিভাইডারগুলোতে গাছের পরিবর্তে একের পর এক বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড স্ট্যান্ড স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডারে বিজ্ঞাপনী স্ট্যান্ড স্থাপন শুরু হয়েছে। এতে নগরীর সবুজায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ডিভাইডারের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
ডিভাইডারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে। এসব গাছের পরিচর্যা করা হয় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে। সড়কের মাঝখানে সারি সারি গাছ নগরীর সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন শোষণ এবং নগরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যস্ত নগরীর ধুলা ও ধোঁয়ার মধ্যে এসব গাছ পথচারী ও নগরবাসীর মনে স্বস্তি আনে। গত কিছুদিন ধরে নগরীর প্রধান সড়কগুলোর ডিভাইডারে গাছের জায়গা দখল করে বসানো হচ্ছে বিজ্ঞাপনের স্টিলের বিলবোর্ড স্ট্যান্ড। ফলে সবুজ ডিভাইডার ধীরে ধীরে বিজ্ঞাপনী কাঠামোয় ভরে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।
এশিয়ান হাইওয়েসহ বিভিন্ন সড়কের ডিভাইডারে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল নগরীর আন্দরকিল্লার সিরাজউদ্দৌলা রোডেও ডিভাইডারে নতুন করে বিলবোর্ড স্ট্যান্ড স্থাপন করতে দেখা গেছে। শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ রক্ষার জন্য ডিভাইডারে গাছ লাগিয়ে সবুজায়ন বাড়ানো প্রয়োজন। অথচ উল্টো গাছের পরিবর্তে লোহার কাঠামো বসানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিটি মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ কমানো এবং বাসযোগ্যতা বাড়াতে সড়কের পাশে ও ডিভাইডারে বেশি করে গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন পরিবেশবিদরা। এমন বাস্তবতায় বিদ্যমান সবুজ সরিয়ে বা তার জায়গা সংকুচিত করে বিজ্ঞাপনী কাঠামো স্থাপন নগরীর পরিবেশ ও নান্দনিকতার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নগরবাসী। সড়ক ডিভাইডারকে বিজ্ঞাপনের বাণিজ্যিক ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের আগে এর পরিবেশগত ও নান্দনিক প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোথায়, কী পরিমাণ এবং কোন শর্তে বিলবোর্ড স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যায় তা নিয়েও নতুন করে ভাবা দরকার বলে তারা মন্তব্য করেন।











