সরগরম কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, ইলিশ আসছে কম

শাহেদ মিজান, কক্সবাজার | সোমবার , ২৯ জুন, ২০২৬ at ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বড় বোটগুলো তীরে ফিরতে শুরু করেছে। এতে সরগরম হয়ে উঠছে কক্সবাজারের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। আসছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর গড়ানো পর্যন্ত মাছ বেচাকেনা চলছে। জেলে, বোট মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে চাঙ্গা ভাব ফিরেছে। এছাড়া উপকূলীয় জেলে পল্লীগুলোতেও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

গতকাল রোববার সরেজমিনে কক্সবাজার মৎস্য কেন্দ্রে দেখা যায়, বিক্রির জন্য তোলা বিভিন্ন প্রজাতির মাছে সয়লাব হয়ে গেছে পুরো কেন্দ্র। ইলিশ, রিটা, সুরমা, পোঁপা, কোরাল, ফাইস্যা, ছুরি, চিংড়ি, কামিলাসহ আরো নানা প্রজাতির মাছ বিক্রির জন্য সাজিয়েছেন জেলেরা। তবে ইলিশের পরিমাণ কম। বিপুল মাছ ধরা পড়লেও দাম বাড়তি রয়েছে সব মাছের। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পুরো স্থানে সংকুলান না হওয়ায় আশেপাশেও মাছ বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন জানান, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর উৎসবমুখর পরিবেশে সাগরে মাছ ধরতে যায় বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার বোটগুলো। সাগরে গিয়ে মোটামুটি মাছের দেখা পায় জেলেরা। আশানুরূপ না হলেও মোটামুটি মাছ ধরা পড়ছে। ধরা পড়া মাছ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে কূলে ফিরছে জেলেরা।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওসমান গণি টুলু জানান, প্রতিদিন শতাধিক বোট আহরিত মাছ নিয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভিড়ছে। আহরিত মাছগুলো বিক্রির জন্য তোলা হয় সেখানে। প্রতিযোগিতা করে ব্যবসায়ীরা মাছ কিনছেন। বাড়তি দামে মাছ বেচাকেনা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, পাইকারী ক্রয়ের পর মাছ প্যাকেটের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে জেলে ও ব্যবসায়ীদের পদভারে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকা।

ফিশারি ঘাটে কথা হলে নৌকার মাঝি জসিম উদ্দীন বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর জেলেরা সাগরের অনেক গভীরে গিয়ে মাছ আহরণ করতে পারছে। জালে মাছও মোটামুটি ধরা পড়ছে। ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। এমন পরিস্থিতি বলবৎ থাকলে জেলেরা লাভবান হবে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বৈদ্য বলেন, মৎস্য আহরণ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ইলিশ আহরণ আশানুরূপ দেখা যাচ্ছে না। আহরিত মৎস্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করছে ব্যবসায়ী। কিন্তু তুলনামূলক বাড়তি দাম রয়েছে। মৎস্য আহরণ বাড়ায় সরকারি রাজস্ব আয়ও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫২৬ অর্থবছরে জেলায় মাছ আহরণ হয়েছিল আড়াই লাখ টনের উপরে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধথানচির দুর্গম ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পরবর্তী নিবন্ধজাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন