বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার নগরীর বহদ্দারহাটস্থ একটি কনভেনশন হলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান আলোচক ছিলেন মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ইসলামী বক্তা মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী। প্রধান অতিথি ছিলেন, মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান।
বিভাগীয় সদস্যসচিব ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম ও মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মোহসেন আল হোসাইনীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন, সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ড. মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান। দারসুল কোরআন পেশ করেন আইআইইউসির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফি উদ্দিন মাদানী।
প্রধান আলোচক মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী বলেন, ওয়াজ বা তাফসির উপস্থাপনের সময় পোশাকের ধরন যদি অসঙ্গত বা জোকারের মতো দেখায়, তাহলে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড কিংবা মক্কা–মদিনা থেকে অর্জিত বড় ডিগ্রি থাকলেও সাধারণ জনগণ সেই বক্তব্য সহজে গ্রহণ করবে না। মাহফিলের আলোচনায় বিতর্কিত কোনো বিষয় স্থান দেওয়া উচিত নয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম বলেন, নির্বাচনের পরে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, বিগত ছয় মাসে তাদের কার্যকলাপ দেখে জনগণ চরমভাবে হতাশ ও উদ্বিগ্ন অবস্থায় সময় অতিবাহিত করছে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া এবং এগিয়ে যাওয়ার যে অঙ্গীকার বর্তমান সরকারের ছিল, তারা বর্তমানে সেসব অঙ্গীকারকে অস্বীকার করে আবারও দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার আয়োজন শুরু করেছে। এই ছয় মাসে তারা যেভাবে দেশের জনগণের ওপর একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে, ঠিক তেমনিভাবে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও মুসলিম জাতিসত্তার ওপরও একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে। দেশের জনগণের মৌলিক প্রয়োজন পূরণেও তারা ইতোমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশে দ্বীন বিজয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ওলামায়ে কেরামের মধ্যকার ছোটখাটো বিষয়ে এখতেলাফ ও ঐক্যের অভাব।
কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. ফখরুদ্দিন আহমাদ বলেন, সামনে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল আয়োজনের পরিবেশ এতটা মসৃণ বা সুখকর হবে–এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। সব বাধা–বিপত্তি মোকাবিলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, জনগণের সঙ্গে ইসলামের গভীর সম্পর্ক স্থাপন, ঈমানি আবেগ তৈরি এবং সমাজে ইনকিলাব বা ইতিবাচক জাগরণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ওয়াজ মাহফিলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিভাগের ওলামায়ে কেরাম ও মুফাসসিরীনদের এই ঐক্যবদ্ধ সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, অধ্যাপক মাওলানা ড. বিএম মফিজুর রহমান আল–আযহারী, মাওলানা আবু হানিফা মোহাম্মদ নোমান, মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী, মাওলানা শফিউল হক জিহাদী, মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, এবিএম তোফায়েল উদ্দিন, মাওলানা মুজিবুল হক ও মাওলানা আবদুল জলিল। সম্মেলনে তিন বছরের জন্য কমিটি ঘোষণা করেন মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. ফখরুদ্দিন আহমাদ।
বিভাগীয় সভাপতি : ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান ও সেক্রেটারি মাওলানা ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম, চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি : মাওলানা আবু হানিফা মো. নোমান ও সেক্রেটারি : মাওলানা মোহসেন আল হোসাইনী, দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী ও সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল আলম জিহাদী, উত্তর জেলা সভাপতি মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন ও সেক্রেটারি মাওলানা এমদাদুল হক নিজামী, কক্সবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা শফিউল হক জিহাদী ও সেক্রেটারি মাওলানা আবুল ফজল, বান্দরবান জেলা সভাপতি মাওলানা মুজিবুল হক ও সেক্রেটারি মাওলানা মো. রাশেদুল হক, রাঙামাটি জেলা সভাপতি মাওলানা এবিএম তোফায়েল উদ্দিন ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা ফেরদৌস আলম, খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল জলিল ও সেক্রেটারি মাওলানা মো. শাহাদাত হোসাইন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












