ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকালে চকরিয়ার ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি জনগণের প্রতি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশের সবার কাছে আহ্বান জানাব, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজকে থেকে প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে সম্ভব, সেখানে একটি করে গাছের চারা রোপণ করবেন।
দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে এতটুকু ধারণা করতে পারি, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে। আসুন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ার নিশ্চয়তা দিই, যেখানে আমাদের প্রজন্ম নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের কাছে আমরা যেসব ওয়াদা করেছিলাম, তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল, আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত পাঁচ কোটি গাছ লাগানো। সেই অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করব।
সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা অনেক মুক্ত, পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ বাতাসে রূপান্তর করতে পারব।
অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকা সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ করে এখানে বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরা সংযুক্ত আছেন। আপনাদের সবার কাছে আমার নির্দেশনা থাকবে, নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর–সবুজ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আপনারা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান ঘোষণা করছি। আমাদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সে রকম একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারব ইনশাআল্লাহ।
সাফারি পার্ক পরিদর্শন : চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। পরিদর্শনকালে সাফারি পার্কের মূল ফটক প্রাঙ্গণে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি পার্কের স্মারক বইয়ে সই করেন। একইসঙ্গে স্মারক বইয়ে সই করেন ডা. জুবাইদা রহমানও।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
নতুন জীবন পেল শহীদ জিয়ার পাতলী খাল : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে সৃষ্ট কক্সবাজারের পাতলী খাল পুত্র বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাতে নতুন করে জীবন পেয়েছে। গতকাল কক্সবাজার সফরকালে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নে অবস্থিত পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এর মাধ্যমে মরণাপন্ন খালটিতে আবার স্রোতধারা সৃষ্টি হয়ে বিস্তৃত এলাকার কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিজে উপস্থিত থেকে এই খালটি খনন করেছিলেন। এই খাল ও আশেপাশে এখনো শহীদ জিয়ার অনেক স্মৃতিচিহ্ন আছে।
সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজারে পৌঁছে বেলা ১০:৫৩ মিনিটে পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মাধ্যমে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। সকাল থেকে চলা অবিরাম বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাতলী গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার হাজার হাজার উৎসুক জনতা খালের দুই পাড়ে এসে ভিড় জমান। প্রধানমন্ত্রী নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করেন। খাল খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিতে খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীদের সূত্রে জানা গেছে, পাতলী খালের দৈর্ঘ্য প্রায় আট কিলোমিটার। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পুনঃখননের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে স্থানীয় কৃষি ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। পুনঃখনন প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পিএমখালী ইউনিয়ন এবং এর আশেপাশের এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।











