জুলাইয়ের শুরুতে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজার জেলার গ্রামীণ সড়কের অভাবনীয় ক্ষতি হয়েছে। এতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, জেলার ৩২৮টি সড়ক, ৫৫টি সেতু ও কালভার্ট এবং ৩টি হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯৪ কিলোমিটার। এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে প্রাথমিকভাবে ২৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।
এলজিইডির কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মাফুজুর রহমান জানান, এলজিইডি কক্সবাজার কার্যালয়ের প্রস্তুত করা ‘সাম্প্রতিক জুলাই–২০২৬ অতিবর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার জেলার সড়ক ও ব্রিজ– কালভার্টের তথ্যাদি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায়। সেখানে ১৩৫টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ৮৭ কিলোমিটার। এছাড়া ৩টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অবকাঠামো মেরামতে প্রয়োজন হবে ৫৮ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার দুটি মাটির অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। পেকুয়া উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫টি সড়ক। যা জেলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ৪২ কিলোমিটার। পাশাপাশি ১২টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ উপজেলার অবকাঠামো পুনর্বাসনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। কঙবাজার সদর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২টি সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের দৈর্ঘ্য ৩৮ কিলোমিটার। সেখানে ৬টি সেতু ও কালভার্ট এবং দুটি হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ৩৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
রামু উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৬টি সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের দৈর্ঘ্য ৩৮ কিলোমিটার। এছাড়া ৬টি সেতু বা কালভার্ট ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ উপজেলার সড়ক পুনর্বাসনে প্রয়োজন হবে প্রায় ২৯ কোটি টাকা। ঈদগাঁও উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২টি সড়ক। যার দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার। এছাড়া ৫টি সেতু বা কালভার্ট এবং একটি হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সম্ভাব্য মেরামত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ কোটি টাকা। কুতুবদিয়া উপজেলায় ২২টি সড়কের ২০ কিলোমিটার অংশ এবং ৭টি সেতু বা কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে পুনর্বাসনে প্রয়োজন হবে ২৮ কোটি টাকা।
মহেশখালী উপজেলায় ১৬টি সড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশ এবং ৮টি সেতু বা কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি টাকা। উখিয়া উপজেলায় ১৬টি সড়কের ১৪ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৭টি সেতু বা কালভার্ট ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রয়োজন হবে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অন্যদিকে টেকনাফ উপজেলায় তুলনামূলক কম ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ১৪টি সড়কের ১২ কিলোমিটার অংশ এবং একটি সেতু বা কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ উপজেলার সম্ভাব্য মেরামত ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা।
এলজিইডি’র কঙবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মাফুজুর রহমান জানিয়েছেন, স্বল্প ক্ষতিগ্রস্ত অনেক সড়ক উপজেলা পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর স্থায়ী সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে কঙবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সড়ক বিভাগের অধীনের জেলার ১৫ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ০.৮৬ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ৩.৪৪ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১১.০৪ কিলোমিটার। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ডিডিএম) জানিয়েছে, বন্যায় ৩৭৬.৭০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ২২০ কিলোমিটার এইচবিবি/বিএফএস রাস্তা এবং ৪৫টি ছোট বঙ কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আ. মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। কারণ কয়েকটি এলাকায় এখনও মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বেড়িবাঁধ, কৃষিজমি, মৎস্য খামার ও জনসেবামূলক অবকাঠামো দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।











