মানুষ মুখে সবসময় সত্যের কথা বলে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে অপ্রিয় কোনো সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস খুব কম মানুষেরই থাকে। কারো ভুল বা কোনো অপ্রিয় সত্যি যদি আপনি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন, সঙ্গে সঙ্গে তার অহংবোধে গিয়ে লাগে। মানুষ তখন নিজের ভুলটা শুধরে নেওয়ার চেয়ে সেটাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবেই ধরে নেয়। ফলে যে সত্যটা বলল, তাকেই মানুষ শত্রু বানিয়ে ফেলে। অন্যদিকে, আমাদের সমাজ অনেক সময়ই সততার চেয়ে মিষ্টি তোষামোদকে বেশি প্রশ্রয় দেয়। মানুষ চায় তার কাজ বা মত ভুল হলেও সবাই সেটাকে বাহবা দিক। কেউ মনে মনে সমর্থন না করেও যখন মুখে হ্যাঁ–তে হ্যাঁ মিলিয়ে যায়, সেই মিথ্যা সম্মতিটাই মানুষের কাছে বেশ ভালো লাগে। এতে সাময়িকভাবে একটা সম্পর্ক টিকে থাকে বটে, কিন্তু ভেতরে ভেতর সেটা তৈরি হয় মিথ্যা আর ভণ্ডামির ওপর। মিথ্যা প্রশংসা করে সাময়িকভাবে সবার প্রিয় হওয়া হয়তো খুব সহজ, কিন্তু সত্যি কথা বলে নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকাটা অনেক বেশি সাহসের কাজ। চারপাশে তোষামোদকারীর অভাব নেই, কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে আত্মসম্মান আর সততা টিকিয়ে রাখতে এই অপ্রিয় সত্য বলার সাহসটুকু থাকা সত্যিই খুব দরকার।












