নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি ওয়া নুসাল্লিমু আলা হাবীবিহিল কারীম। আমরা সচেতন মুমিনগণ অবগত আছি যে, দয়াময় আল্লাহতাআলার পরম দান ও সর্বোচ্চ রহমত এবং অস্তিত্বের অপরিহার্য রক্ষা হিসেবে প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের শুভাগমন ঈদে আজম ঈমানের শুভাগমন, দ্বীনে হকের শুভাগমন, স্বাধীনতা–অধিকার–মর্যাদা–সমৃদ্ধি–নিরাপত্তা ও জীবনের সকল আলো ও দিশার শুভাগমন, সকল অপশক্তির আঁধার–দাসত্ব–পাশবিকতা–বর্বরতা–পরাধীনতা– সন্ত্রাস–স্বৈরতা থেকে উদ্ধার ও মুক্তির শুভাগমন, মানব জীবনের সাথে দয়াময় আল্লাহতাআলার সম্পর্ক ও বন্ধনে অপরিহার্য একমাত্র মূল অবলম্বন হিসেবে সর্বগুণ, সর্বজ্ঞান ও সর্বকল্যাণের উৎস রূপে দুনিয়ায় আল্লাহতাআলার মহাসত্তার নূর মহান প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের শুভাগমন ঈদে আজম।
যে শুভাগমনের অন্যতম লক্ষ্য সত্য ও জীবনের শত্রু সকল প্রকার বাতিল জালিম অপশক্তির গ্রাস থেকে আত্মা ও জীবনের সব দিকে মানবজীবনকে মুক্ত করে এবং জীবনের সকল আলোকমালায় সমৃদ্ধ করে তার সৃষ্টির প্রকৃত লক্ষ্য ও গন্তব্যে বিকশিত করা।
অস্তিত্বের অপরিহার্য রক্ষা ও বিকাশ হিসেবে প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের শুভাগমন ঈদে আজমের যে দান ও লক্ষ্য, সত্য ও মানবতার প্রতিষ্ঠায় যা কিছু কায়েমের জন্য এবং মিথ্যা অবিচার থেকে মুক্তির জন্য যা কিছু উৎখাতের জন্য মহান ঈদে আজম তার প্রায় সব কিছু আমরা হারিয়ে বিপরীত অবস্থায় পৌঁছেছি। আত্মা ও জীবনের সবদিকে এবং জীবনের নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার সবদিকে আজ আঁধার ও অবিচার এবং বিপরীত অপশক্তি প্রতিষ্ঠিত। মহান ঈদে আজমের দান জীবনের সত্য এবং মানবতা অধিকার আজ দুনিয়ায় সর্বত্র লুণ্ঠিত।
মহান ঈদে আজম পবিত্র কালেমার ভিত্তিতে যে ঈমানী সত্তা ও জীবনের ভিত্তিতে বস্তুর উর্ধ্বে যে মানবসত্তা দান করেছে বস্তুবাদ তা বিনষ্ট ও উৎখাত করে কুফরীয়াত ও হায়ওয়ানিয়াতের জীবন ও দুনিয়া কায়েম করেছে। মহান ঈদে আজমের দান ঈমানিয়াত ও ইনসানিয়াতের বিরুদ্ধে বাতিল ফেরকা, বস্তুবাদি মতবাদ ও ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদ বহুমুখী যুদ্ধ করে চলেছে। ঈমান–দ্বীন–জীবন–ন্যায়–অধিকার–স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বাতিল জালিম অপশক্তির একক গোষ্ঠীবাদি স্বৈরদস্যুতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সারা দুনিয়ায়, ফলে মহান ঈদে আজমের দান সত্য ও জ্ঞানের প্রবাহ যেমন রুদ্ধ হয়ে গেছে তেমনি জীবনের স্বাধীনতা অধিকার লুট হয়ে গেছে, মিথ্যা–অবিচার–পাশবিকতা–খুন–গুম–শোষণ–বৈষম্য–সন্ত্রাস–দস্যুতা–স্বৈরতার সার্বভৌমত্ব কায়েম হয়েছে সর্বত্র।
ঈমান–দ্বীন–জীবন–মানবতার বিরুদ্ধে আজ বিভিন্ন প্রকার বাতিল জালিম অপশক্তির সর্বগ্রাসী সর্ববিনাশী যুদ্ধ চলছে, যে যুদ্ধে সত্য ও মানবতার ধারা পরাজিত ও উৎখাত হয়ে গেছে, সত্য ও মানবতার মুক্তিসূর্যের উদয়স্থল পবিত্র কেবলাভূমি আল আরব পর্যন্ত আজ অপশক্তির জবরদখলে অবরূদ্ধ। যে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির মূলে আছে ঈদে আজমের লক্ষ্য ভুলে এবং মহান শাহাদাতে কারবালার দিশা হারিয়ে বিনাশী পথের শিকার হওয়া।
মহান ঈদে আজমের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভুলিয়ে দ্বীন–মিল্লাত–মানবতাকে মিথ্যা আঁধার বিনাশের গহ্বরে চির রুদ্ধ করে রাখার জন্য তথা সত্য ও মানবতার বিরুদ্ধে বস্তুবাদি মতবাদের সাথে ইসলাম ও এর আসল ধারা আহলে সুন্নাতের ছদ্মনামেও চলছে বিভিন্ন প্রকার প্রতারণা, চলছে হীন অসৎ স্বার্থে মিল্লাতকে বিভিন্ন অপশক্তির ক্রীতদাস করে রাখার এবং বিকিয়ে দেয়ার কারসাজি।
দুনিয়ায় প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের মহান শুভাগমন ঈদে আজমের দান ঈমান–দ্বীন–জীবনের স্বাধীনতা–অধিকার–নিরাপত্তা–মর্যাদা–সমৃদ্ধি–বিকাশ এবং আখেরাতের নাজাত থেকে বঞ্চিত করে সব মানুষকে দোজাহানে ধ্বংসের জন্য ও মহান ঈদে আজমের লক্ষ্য উৎখাতের জন্য বাতিল জালেম অপশক্তি মিথ্যা ও জুলুমের একক গোষ্ঠীবাদি স্বৈরদস্যুতার সর্বাত্মক অবকাঠামো তৈরি করে রেখেছে, যার ফলে দুনিয়ার চার ভাগের তিন ভাগ মানুষ এখনও ঈমানের পবিত্র কলেমা ও দ্বীনে হক তথা সত্যের সন্ধান পায়নি এবং সারা দুনিয়া অপশক্তির আঁধার গ্রাসে অবরুদ্ধ হয়ে আছে।
এমতাবস্থায় অস্তিত্ব রক্ষায় ঈদে আজমের কর্মসূচী উদযাপন করতে হবে এর যথার্থ লক্ষ্যে সত্য ও মানবতার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং মিথ্যা ও অবিচার থেকে মুক্তির সাধনায়, আর এ জন্য আত্মিক দিক থেকে যেমন অপরিহার্য সব বাতিল থেকে মুক্ত থাকা তথা ঈমানের পবিত্র কলেমার আলোক জীবন চেতনায় অটল থাকা, তেমনি জীবনের দিক থেকে বাতিল জালিম অপশক্তির একক গোষ্ঠীবাদি স্বৈরদস্যুতার গ্রাস থেকে সমগ্র মানবতা ও সমগ্র দুনিয়াকে উদ্ধার করা।
সর্ব বাতিলের এ ধ্বংসাত্মক অবকাঠামো ও আঁধার চক্রজাল থেকে জীবনের সার্বিক মুক্তির জন্য আত্মা ও জীবনের সব দিকে, আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার সব পর্যায়ে আমরা মহান ঈদে আজমের আলোকধারায় একাকার আপনাদেরকে তথা সত্য ও মানবতার ধারকদেরকে মহান ঈদে আজমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক কর্মসূচীতে এগিয়ে যেতে হবে, যা ব্যতীত মিথ্যা–অবিচার–স্বৈরদস্যুতার বিনাশী ধারা জীবন ও দুনিয়ার উপর কায়েম থাকবে এবং সত্য ও মানবতার ধারা পরাজিত ও উৎখাত হয়ে যাবে।
একক গোষ্ঠীবাদি স্বৈর দস্যুতান্ত্রিক রাষ্ট্রই প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমনের সকল দান ও কল্যাণ থেকে সকল মানুষকে বঞ্চিত রাখার জন্য তথা সত্য ও মানবতার বিরুদ্ধে বাতিল জালেম অপশক্তির সর্বনিকৃষ্ট হাতিয়ার।
প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের মহান শুভাগমনের দান সত্য ও কল্যাণের মুক্ত প্রবাহের ধারায় সকল মানুষের দুনিয়া গড়ে তোলার একমাত্র পথ মিথ্যা অবিচারের ধারক একক গোষ্ঠীর স্বৈরদস্যুতা থেকে মুক্ত সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্র ও মানবিক সাম্যের রূপরেখায় মুক্ত মানবতার মুক্ত বিশ্বব্যবস্থা খেলাফতে ইনসানিয়াত।
প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের দেয়া সত্য–স্বাধীনতা– অধিকার–নিরাপত্তা–মর্যাদা এবং প্রতিটি মানুষের জীবনের আত্ম মালিকানা ও দুনিয়ার সব সহায় সম্পদের সম্মিলিত মালিকানা ও কর্তৃত্ব, যা আজ গোষ্ঠীবাদি স্বৈরদস্যুতন্ত্রের মাধ্যমে ছিনতাই হয়ে গেছে, তা পুনরুদ্ধার ও বাস্তবায়নের একমাত্র উপায় সত্যের পবিত্র কলেমা প্রদত্ত জীবনের প্রাকৃতিক রাষ্ট্র ও বিশ্বকাঠামো খেলাফতে ইনসানিয়াত।
এমতাবস্থায় অস্তিত্ব রক্ষায় ঈদে আজমের কর্মসূচী উদযাপন করতে হবে এর যথার্থ লক্ষ্যে সত্য ও মানবতার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং মিথ্যা ও অবিচার থেকে মুক্তির সাধনায়, আর এ জন্য আত্মিক দিক থেকে যেমন অপরিহার্য সব বাতিল থেকে মুক্ত থাকা তথা ঈমানের পবিত্র কলেমার আলোক জীবন চেতনায় অটল থাকা, তেমনি জীবনের দিক থেকে বাতেল জালেম অপশক্তির একক গোষ্ঠীবাদি স্বৈরদস্যুতার গ্রাস থেকে সমগ্র মানবতা ও সমগ্র দুনিয়াকে উদ্ধার করা।
সর্বসৃষ্টি ও সমগ্র মানবমণ্ডলী সবার জন্য দয়াময় আল্লাহতাআলার অসীম রহমত সর্বকল্যাণের উৎস হিসেবে প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের শুভাগমনের দান সব মানুষের জন্য আলোকময় রহমতময় জীবন ও দুনিয়া একমাত্র সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মানবিক সাম্যের রূপরেখায় মুক্ত মানবতার অখণ্ড বিশ্বব্যবস্থা খেলাফতে ইনসানিয়াত এর মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে। ঈদে আজম ও মানবতার মুক্তি সাধনা অবিচ্ছেদ্য বিষয়।
আর এ লক্ষ্যে ঈদে আজম উদযাপনের সর্বোচ্চ কর্মসূচী হতে হবে দ্বীনী মূল্যবোধ ভিত্তিক সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা খেলাফতে ইনসানিয়াত তথা ধর্ম–জাতি–বিশ্বাস–আদর্শ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার–স্বাধীনতা–নিরাপত্তা– রুটিরুজি– মর্যাদা–মালিকানার রাষ্ট্র ও বিশ্ব। মহান ঈদে আজমের দান পবিত্র কলেমার মর্মধারা রেসালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক জীবন চেতনা ব্যতীত যেমন আত্মার মুক্তি নেই তেমনি খেলাফতে ইনসানিয়াত ব্যতীত অপশক্তির গ্রাস থেকে অবরুদ্ধ সত্য, বিপন্ন জীবন ও বিধ্বংস মানবতার মুক্তির কোন পথ নেই।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন












