বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে শিশুর প্রাণ নেওয়া ‘ধলাপাহাড়’ নামের কুমিরটিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে নেওয়া হয়েছে। ১২ অগাস্ট খুলনার বয়রার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে কক্সবাজারে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল। ১ জুন রাতে মাজারের দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে বা হাত–মুখ ধুতে নেমে কুমিরের আক্রমণে মারা যায় আট বছর বয়সী ফাতেমা। পরদিন ভোরে দিঘির পানিতে শিশুটির লাশ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়। এর আগে একটি কুকুরকেও কুমিরটি আক্রমণ করে হত্যা করেছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। শিশুর মৃত্যুর পর দিঘিতে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে ৩ জুন কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজের।
নির্মল কুমার পাল বলেন, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কোনো প্রাণী দীর্ঘদিন রাখার সুযোগ নেই। এ কারণে বৃহত্তর আবাসস্থলের কথা বিবেচনা করে কুমিরটিকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে ঢাকার বন সংরক্ষক, বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলে চিঠি পাঠানোর পর কক্সবাজারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাদি কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাত থেকে আট ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি। ২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে খানজাহান আলী (রহ.)-এর দিঘিতে আনা ছয়টি কুমিরের মধ্যে এটিই বর্তমানে জীবিত থাকা শেষ কুমির।
খুলনা থেকে কক্সবাজারে নেওয়ার পর কুমিরটি ভালো আছে বলে জানিয়েছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, কুমিরটিকে এখন বেশ ভালো মনে হচ্ছে। পার্কের দিঘিতে সপ্তাহে একদিন খাবার দেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর দিনই কুমিরটি একটি জীবিত মুরগি খেয়েছে। এরপর আর খাবার খেতে দেখা যায়নি। খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় কুমিরটি প্রায় কোনো খাবারই খায়নি বলে জানান নির্মল কুমার পাল। শুরুতে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও খাবার না খাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার কুমির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয় বনবিভাগ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বন্দি অবস্থায় কুমির দীর্ঘ সময় না খেলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। জোর করে খাওয়ানোরও দরকার নেই। কেন্দ্রটির চিকিৎসক জুলকারনাইনও কুমিরটির শারীরিক পরীক্ষা করে সুস্থ অবস্থায় পান বলে জানান নির্মল। তার ভাষায়, নতুন পরিবেশে এসে কুমিরের কিছুদিন খাবার না খাওয়া স্বাভাবিক। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী হওয়ায় কুমিরের শক্তির চাহিদা তুলনামূলক কম। শরীরে সঞ্চিত চর্বি থেকেও তারা দীর্ঘ সময় শক্তি পেতে পারে।












