লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশের আরও কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপ দখল করে নিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার ইয়েমেন সরকার ও হুতি কর্মকর্তারা এতথ্য জানিয়েছে। এতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজেদের অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করল ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি। কর্মকর্তারা জানান, বাব আল মান্দেব প্রণালি থেকে ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত গ্রেটার হানিশ এবং লেসার হানিশ দ্বীপ দখলে নিয়েছে হুতিরা। ইয়েমেনের সরকারি দুই কর্মকর্তা ও এক হুতি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ জানায়, ইয়েমেনের সরকার সমর্থিত বাহিনী হানিশ দ্বীপপুঞ্জ থেকে পিছু হটার পরই হুতি বিদ্রোহীরা তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। খবর বিডিনিউজের।
এর আগে গত সপ্তাহে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাত থেকে লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর নগরী এবং বাব আল মান্দেব প্রণালির মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয় হুতিরা। হরমুজ প্রণালির বিকল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল মান্দেব। গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর ও মায়ুন দ্বীপ হাতছাড়া হওয়াকে সরকারি বাহিনীর জন্য একটি বেদনাদায়ক পরাজয় বলে স্বীকার করেছেন ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা। তবে লোহিত সাগর উপকূলে নতুন করে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। ওদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে সরকারি বাহিনীর পাল্টা হামলা এবং বিপরীতে প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের ভেতরে হুতিদের হামলার কারণে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের তেলবাহী জাহাজে হুতি বিদ্রোহীদের এই ক্রমাগত হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্যের ওপর নতুন করে তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে এই অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরানকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। ইয়েমেন ফের বড় ধরনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।











