রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে শোরুম বন্ধ রাখা, কাস্টমস শুল্কায়ন এবং বিআরটিএতে রেজিস্ট্রেশন, বন্দর থেকে গাড়ি খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন–বারভিডা। আজ সকাল থেকে দেশের সব সদস্য প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন গাড়ির শোরুম বন্ধ রাখার পাশাপাশি উপরোক্ত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।
বারভিডা বলছে, গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতি আদেশে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি ঠিক হয়নি এবং দেশের মোটরযান সেক্টরের জন্য কোন কল্যাণ আনবে না বলে মন্তব্য করে বারভিডার একাধিক নেতা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্দিষ্ট বয়সসীমা, ব্যাটারির সক্ষমতা, নিরাপত্তা, পরিবেশগত মান ও কারিগরি পরীক্ষার শর্তে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে একদিকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলনামূলক কম দামে আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি পৌঁছাবে, অন্যদিকে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর সরকারি লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
তারা বলেন, নতুন আমদানি নীতির যানবাহন সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো গাড়ি, মোটরকার, প্যাসেঞ্জার কার ও ট্রাক আমদানি করা যাবে। তবে একই বিধানে পুরোনো বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করা যাবে না বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বয়সসীমা ও অন্যান্য শর্ত লঙ্ঘন করে গাড়ি আমদানি করা হলে তা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে।
এ অবস্থায় বারভিডা বলছে, প্রচলিত আমদানি ব্যবস্থায় রিকন্ডিশন্ড মোটরযান দেশের গাড়ির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বারভিডার সদস্যরা দেশের মোট মোটরযান সরবরাহের বড় একটি অংশ যোগান দিয়ে থাকেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মোটরযান সরবরাহের প্রায় ৮৫ শতাংশ বারভিডার মাধ্যমে এসেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
গাড়ি ব্যবসায়ীরা বলেন, নতুন ইভির দাম এখনো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন–মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় অংশের নাগালের বাইরে। ফলে ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড ইভি তুলনামূলক কম দামে বাজারে এলে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তারা।
এর আগে ২০২৩ সালে সরকার ‘ইলেকট্রিক মোটর ভেহিকেল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড অপারেশন গাইডলাইন’ প্রণয়ন করে। ওই নীতিতেও ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক পরিবহন খাতে অন্তত ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা উল্লেখ ছিল।
রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির ক্ষেত্রে শুধু বাজার সমপ্রসারণ নয় বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ব্যাটারির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ব্যবহৃত ইভির ব্যাটারি পরীক্ষা, অবশিষ্ট সক্ষমতা নির্ধারণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাটারি সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ ব্যবহারের জন্য দেশে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও সুস্পষ্ট ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে ওঠেনি।
বারভিডা সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলেছেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর পর্যন্ত পুরোনো ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়ির ব্যাটারির ‘স্টেট অব হেলথ’ বা এসওএইচ ন্যূনতম ৭০ শতাংশ থাকার শর্ত দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। গাড়ির বয়সের পাশাপাশি ব্যাটারির প্রকৃত সক্ষমতা যাচাই করে আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশের মোটরযান সেক্টর এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপকৃত হবে বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।
বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তির মোটরযানের সম্ভাবনা ও ব্যবহার থেকে গ্রাহকদের বঞ্চিত করা হলে দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে রিকন্ডিশন্ড ইভি নিয়মিত রপ্তানি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অপরদিকে সরকারি সূত্রগুলো বলেছে, ইভি খাতের নীতিনির্ধারণে সরকার বর্তমানে শুধু আমদানি নয়, স্থানীয় উৎপাদন, চার্জিং অবকাঠামো, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও কারিগরি মান নিয়ে কাজ করছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও জিআইজেডের উদ্যোগে জুলাইয়ে ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসি ২০২৬’ নিয়ে ইতোমধ্যে বিস্তারিত আলোচনা এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ইভির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও তারা জানান।












