চট্টগ্রাম ওয়াসা পরপর গত দুই মাসে সর্বোচ্চ পরিমান রাজস্ব আদায়ের পরও সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কাছে এখনো ২৫৯ কোটি টাকার রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে ওয়াসার বকেয়ার পরিমান ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বকেয়া পাওনার পরিমান ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বলে ওয়াসার রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে। চট্টগ্রাম ওয়াসায় দীর্ঘদিন থেকে মাসিক রাজস্ব আদায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও গত জুলাই–আগস্টে রাজস্ব আদায়ে এযাৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ এবং আগস্টে ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম।
ইতোমধ্যে বকেয়া রাজস্ব আদায়ে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সিস্টেম এনালিষ্ট, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজম্ব তত্তাবধায়ক ও মিটার পরিদর্শকদের সমন্বয়ে ৮টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই টিমের সদস্যরা প্রতিদিন রুটিন মাফিক সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের কাছে বকেয়া আদায়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৮টি মনিটরিং টিম এলাকাভিত্তিক চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে জোরালোভাবে মাঠে কাজ করছে। এসব টিম গত দুই মাস থেকে সাত কর্মদিবস মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নির্ধারিত এলাকায় বকেয়া থাকা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিল পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মনিটরিং টিম মূলত মোটিভেশনাল কার্যক্রম করছে। এর আগে আমরা ৫০ হাজার টাকার উর্ধ্বে বকেয়া আদায়ে কাজ করেছি এবার ২৫ হাজার টাকার উর্ধ্বে বকেয়াধারীদের নিয়ে সাত কর্মদিবসের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম শেষে এর ফলাফল মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অফিস আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার ২৫ হাজার টাকার উর্ধ্বে বকেয়াধারী সব গ্রাহকের সংযোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে বকেয়া আদায় কার্যক্রম তরান্বিত করতে হবে। বকেয়া আদায়ে জোরালো তৎপরতার সুফল ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায়েও দেখা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ওয়াসার এমডি আরও বলেন, গঠিত টিমের সদস্যদেরকে প্রতিদিনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন তদারকি কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। বকেয়াধারী গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে ওয়াসার গ্রাহক ডাটাবেজ সমদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে হিসাব নম্বর, নোটিশ প্রদানের তারিখ, মোট বকেয়ার পরিমাণ, আদায়ের পরিমাণ, আদায়ের তারিখ, গ্রাহকের সর্বশেষ মোবাইল নম্বর এবং বকেয়া আদায় না হওয়ার কারণ উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। এর ফলে কোন এলাকায় কতজন বড় অংকের বকেয়াধারী রয়েছেন, তাদের প্রকৃত অবস্থান, সংযোগ সচল আছে কি না এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করছেন কি না, সে সম্পর্কেও একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরির সুযোগ হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ না করা গ্রাহকদের সংযোগের বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়েজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।












