চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী এসি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী লেগুনা পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ভয়াবহতায় লেগুনা গাড়ির ছাদ উড়ে যায়। এ সময় গুরুতর আহত হন লেগুনার ৯ যাত্রী। খবর পেয়ে তাদেরকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার করে কাছের মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। বাকিদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে একে একে মারা যান আরও তিনজন। আহত ৫ জন সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়াস্থ বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। এ সময় ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। নিহতরা হলেন– চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেগুন বাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসীম উদ্দিন (২৫), খুটাখালীর ফুলছড়িস্থ শিয়া পাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মোহাম্মদ শাহেদ (২৭), খুটাখালীর নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫) ও পার্শ্ববর্তী ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮)।

আহতরা হলেন– খুটাখালী নতুন অফিস মাদরাসা পাড়ার আবদুল সামাদের ছেলে জিয়াবুল হক (৪০), খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া গ্রামের বদরুদ্দোজার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), ঈদগাঁও উপজেলার নাপিতখালী এলাকার আলী মিয়ার ছেলে সৈয়দ আলম (৫০) ও তার ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার (১৯) ও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কিরনতলী গ্রামের রহমত করিমের ছেলে সৈয়দ করিম (৩০)।
মহাসড়কের ডুলাহাজারাস্থ মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লাল সবুজ পরিবহনের যাত্রীবাহী এসি বাস (ঢাকা মেট্রো–ব–১৫–৮০৯০) চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক ঈদগাঁও উপজেলা থেকে চকরিয়ামুখী লেগুনা পরিবহনের (স্থানীয় ভাষায় জিটু গাড়ি) যাত্রীবাহী গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, লেগুনা গাড়ির ছাদ পর্যন্ত উড়ে যায়। এতে ওই গাড়িতে থাকা ৯ জন যাত্রীর সকলেই গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় খবর পেয়ে স্থানীয় জনতার সহায়তায় মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে পাশের মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১টার দিকে আরও তিনজন মারা যায় বলে হাইওয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়।
এ ব্যাপারে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ–পরিদর্শক (এসআই) মো. শামছুজ্জামান দৈনিক আজাদীকে জানান, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় লেগুনা গাড়ির ৯ যাত্রীর মধ্যে একে একে চারজন মারা যায়। আহত হন আরও পাঁচজন যাত্রী। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি আরও জানান, ভোরে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ার সময় সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় ক্রেন দিয়ে মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।












