মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা কার্যকর করার মাধ্যমে সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও জীবন রক্ষায় গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। গতকাল বুধবার নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে দুদিনব্যাপী এই কর্মশালা শুরু হয়।
ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) অংশ হিসেবে জিআরএসপি দুদিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে। গতকাল প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বিদ্যমান ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সড়কে যাত্রাপথে সময় বাঁচানোর চেয়ে জীবন বাঁচানোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলতে হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ–পুলিশ কমিশনার (সদর) ফেরদৌস আলী চৌধুরী। জিআরএসপির এশিয়া প্যাসিফিক সিনিয়র রোড পুলিশিং অ্যাডভাইজর পিটার জোনস প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন। সেশনগুলোতে রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধে গতিসীমা বাস্তবায়নে পুলিশের ভূমিকা, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত গতির প্রভাব, প্রযুক্তি ও কৌশল, এবং সড়কের পাশের চেকপোস্ট নিরাপদভাবে পরিচালনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪ অনুযায়ী, মহাসড়কে ৮০ কিলোমিটার, শহরে ৫০ কিলোমিটার এবং স্কুলের আশপাশে ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে যানবাহন চালালে পুলিশ সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দিতে পারবে। এরপরও ‘রোড সেফটি রিস্ক ফ্যাক্টরস ইন চট্টগ্রাম : স্ট্যাটাস সামারি রিপোর্ট ২০২৪’ অনুযায়ী ৪৪ শতাংশ যানবাহন গতিসীমা অতিক্রম করছে। জনস হপকিন্স ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্চ ইউনিট এবং সিআইপিআরবি প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে গতিসীমা লঙ্ঘনের হার সবচেয়ে বেশি, ৭০ শতাংশ মোটরসাইকেল অতিরিক্ত গতিতে চলতে দেখা গেছে।
পিটার জোনস বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেইফ সিস্টেম পদ্ধতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মোটরযানের গতি নিয়ন্ত্রণ। বিআইজিআরএস কর্মসূচির সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে আমি অত্যন্ত মূল্যবান মনে করি। আমরা সবাই মিলে চট্টগ্রাম নগরীতে রোড ক্র্যাশে হতাহত কমানোর অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।
কর্মশালায় ট্রাফিক সার্জেন্ট, সাব–ইন্সপেক্টর, পুলিশ পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনারসহ মোট ৭২ জন পুলিশ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিআরটিএর চারজন পরিদর্শকও কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালা শেষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।
সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৪৪ শতাংশের বেশি যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে চলাচল করে, যার ফলে প্রতি বছর সড়কে প্রায় ১শ প্রাণহানি ঘটে।









