যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয় ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে

৫০ হাজার টাকা বেতনে বড় সাজ্জাদের হয়ে চাঁদাবাজি, নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার সানি

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১ নভেম্বর, ২০২৬ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে প্রবাসী ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাব্বির হোসেন ওরফে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী বলে জানিয়ে পুলিশ বলেছে, সানি মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতনে বড় সাজ্জাদের হয়ে চাঁদাবাজি করতেন।

চাঁদা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, এমনকি গুলি চালানোর হুমকিও দিতেন সাব্বির। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তাদের ফোনে যোগাযোগ করাই ছিল তার মূল কাজ। এ দায়িত্ব পালনের জন্য বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন তিনি। এক প্রবাসীকে ফোনে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে পৌঁছার পর সাব্বির গা ঢাকা দেন। পরে শুক্রবার রাতে জেলা পুলিশের একটি দল নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, সাব্বিরের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করছিলেন। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ এবং তার সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশনায় তিনি চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

পুলিশ বলেছে, গত আগস্টে হামজারবাগ এলাকার প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে মোহাম্মদ শওকতের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। ফোনে তিনি শওকতকে বড় সাজ্জাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসার নির্দেশ দেন। অন্যথায় পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার হুমকি দেন। ফোনালাপে সাব্বির বলেন, একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে? একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে। কমবে না।

একই ফোনালাপে পরিবারের সদস্যদের শরীরে বোলতার বাসা বানানোর মতো নির্যাতন করার হুমকিও দেন তিনি। এমনকি শওকতের বাবা হৃদরোগী হওয়ায় তাকে সরাসরি ফোন না করে ছেলেকে বিষয়টি জানানোর কথা বলেন।

পুলিশের কাছে ওই হুমকির ফোনালাপের অডিও রেকর্ড রয়েছে। এ ঘটনার পর প্রবাসী ইউসুফের ভবনের ফটকে গুলিও চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বিরের অপরাধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ পরিচালনার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল। বড় সাজ্জাদের পাশাপাশি তার সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশনায় তিনি ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ফোন করে চাঁদা দাবি করতেন।

তিনি জানান, যাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হতো, তাদের সম্পর্কে আগে থেকেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা থাকত। বড় সাজ্জাদ অন্য একটি দলের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর সাব্বির নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ফোন করে চাঁদা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিতেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা কিংবা গুলি করার হুমকি দেওয়া হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব হুমকি অনুযায়ী সশস্ত্র হামলাও চালানো হতো।

পুলিশ জানায়, সাব্বিরের বিরুদ্ধে নগরীর পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। তবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী মামলা করতে সাহস পাননি।

এদিকে গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ার ঘটনায় সাব্বিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সড়কে দাঁড়িয়ে একটি কারখানার দিকে পিস্তল তাক করে গুলি ছুড়ছেন। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায়। পুলিশ বলছে, ফুটেজের ওই ব্যক্তি সাব্বির। পুলিশ তার কাছ থেকে আরো তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইলিশের উৎপাদন কমায় নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
পরবর্তী নিবন্ধমেধার প্রকৃত ও নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে : মাহদী আমিন