মা ডাকটি শোনার পর একটি মেয়ে তার জীবনের প্রথম মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করে। গর্ভে থাকাকালীন সময় থেকে সন্তান আর মায়ের টান গভীর ভাবে অনভূত হয়। মা তার প্রতিটি রক্ত কণিকায় সন্তানের অস্তিত্ব উপলব্ধি করে। জন্মের আগে আর পরে তার অনাগত সন্তান যেন সুস্থ সুন্দরভাবে পৃথিবীর আলো দেখে প্রতিটি মা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করার। অবশেষে নতুন ভোরের সূর্যের ন্যায় কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে যখন আসে মা তার দশ মাসের মাতৃত্বের অসহ্য যন্ত্রণা ভুলে যায় একপলক সন্তানের মুখটি দেখে। মনে হয় একজন মা পুরো বিশ্ব জয় করে তার নাড়ী ছেঁড়া ধন সন্তানের মুখটি দেখার পর। এই এক স্বর্গীয় অনুভূতি। একমাত্র সদ্য প্রসূতি মা এই অনুভূতি অনুধাবন করতে পারে। সন্তান জন্মের পর একজন মা অনেক দায়িত্বশীল হয়। তার সন্তান কীভাবে ভালো থাকবে সুস্থ থাকবে এমন কি খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুম পাড়ানো পর্যন্ত মায়ের কাজের অন্ত থাকে না । কত মা নির্ঘুম রাত যাপন করে সন্তানের মায়া ভরা হাসি মুখটি দেখে। সে সন্তান ধীরে ধীরে বড় হয়। আধো আধো বোলে মা ডাকে। এক পা দু পা করে মায়ের হাত ধরে হাঁটে। মিঠি মিঠি হাসে। এসব দেখে মায়ের চোখ জুড়িয়ে যায়। মা তার সন্তানকে নিয়ে কত স্বপ্ন রচনা করে। সন্তানের জন্য অনেক প্রিয় শখ ত্যাগ করে যাতে তার সন্তান ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। তারপর আসে সন্তান স্কুলে ভর্তির যুদ্ধ। প্রাইমারি মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক মায়ের আয়ত্তে থাকলে ও সন্তান যখন আরো উচ্চ শিক্ষার জন্য ইউনিভার্সিটি বা দেশের বাইরে পড়তে যায় তখন মায়ের সাথে কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়। অবশ্য আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এই দূরত্ব এখন সাময়িক। এখন সবকিছুই হাতের নাগালে। ভিডিও কলের মাধ্যমে যেখানেই থাকুক দেখা হয় কথা হয়। যুগের সাথে তাল রেখে মায়েরা ও অনেকটা এগিয়ে। যতই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে না কেন মা তার সন্তানের জন্য চিন্তা করে। এই একটি জায়গায় মায়েদের মন এখনো ব্যাকডেটেড। কারণ মা যে সন্তানকে হাত ধরে নিয়েই স্কুলে আসা–যাওয়া করতো সে সন্তান যখন বড় হয়ে নিজে নিজে সব করে। অনেক কিছুই মা দেখে না। তার সন্তান কোথায় যায় কী করে কার সাথে মিশে মায়ের মনে ভাবনা জাগে। একটু দেরি হলে বা ফোন না ধরলে মায়ের মনে দুশ্চিন্তা হতে থাকে। ঠিকমতো আছে কিনা। ফেসবুক পত্রিকা খুললেই অহরহ নানা দুর্ঘটনার খবর দেখা যায়। এসব দেখে মায়েদের মন সন্তানের জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। তাই বারবার ফোন করে সন্তানের খবর নেয়। এতে তরুণ বয়সের সন্তান অনেক সময় বিরক্ত হয়। তাদের চোখে দুনিয়া রঙিন। তরুণ বয়স রক্ত টগবগিয়ে উঠে। অল্পতে রেগে যায়। কিন্তু মায়ের মন এরা বুঝে না। কেন এত চিন্তা ? একটু অসচেতনতার কারণে কত মায়ের কোল অকালে খালি হয়। মায়ের এই চিন্তা সন্তানের প্রতি গভীর মায়া মমতা আর ভালোবাসা থেকে। মায়েরা সবসময় কামনা করে তার সন্তান যেখানে যায় সকল বিপদ–আপদের ছায়া যেন তার সন্তানকে স্পর্শ না করে। সন্তানদেরও উচিত মায়েদের মায়া মমতা আর ভালোবাসাকে উপেক্ষা না করে মায়েদের উপদেশ মেনে চলে সুন্দরভাবে জীবন পরিচালিত করার।











