মাদক আমাদের সমাজ তথা দেশের জন্য অভিশাপ বলা চলে। মাদকের নেশায় আজকাল বেশিরভাগ তরুণ প্রজন্ম অন্যায়ের বেড়াজালে আঁটকে পড়ছে। ছিঁটকে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ। তৈরি হচ্ছে কিশোর গ্যাং নামক এক বিষাক্ত প্রজন্ম। অতীত স্মৃতি স্মরণ করলে স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, অতীতে কিশোর গ্যাং নামক অদ্ভুত শ্রেণির খুব একটা দাপুটে স্বভাব ছিলো না। থাকলেও খুবই কম যেখানে অবাধে মাদকের সাথে জড়িত থাকাটাও খুবই নামমাত্র বলা চলে। সমপ্রতি যত্রতত্র মাদকের অরাজকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে মহামারি আকারে। স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের সরাসরি দেখা যায় মাদকের সাথে যুক্ত হয়ে খারাপ কাজে লিপ্ত হতে। মাদকের কবলে আসক্ত হয়ে বেড়ে চলেছে, খুন, হত্যা, ধর্ষণসহ নানাবিধ অপকর্ম। সমাজের আনাচে–কানাচে আজকাল মাদকদ্রব্য আদানপ্রদান স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিবেশে সাধারণ মানুষের পথ চলতে ভয় ভীতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নারীদের একা পথ চলতে নিরাপদ মনে হচ্ছে না। মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে চুরি, ছিনতাই করতে তরুণ প্রজন্ম দু‘বার ভাবছে না। মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে, ছেলের হাতে বাবা খুন, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, প্রতিবেশীর হাতে পুরো পরিবার খুন এমন ব্রেকিং নিউজ প্রতিদিন দেখতে হচ্ছে টিভির পর্দায়। মাদকের কবলে জর্জরিত সমাজ ব্যবস্থায় জাতি আজ হুমকির মুখে। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদকাসক্ত ব্যক্তি যেকোনো ধরনের অন্যায় করে যাচ্ছে খুব সহজে। এইভাবে হতে থাকলে একটা জাতির ধ্বংস ঠেকানো খুবই মুশকিল হয়ে পড়বে। আমাদের নতুন প্রজন্ম আমাদের দেশের সম্পদ সুতরাং নতুন প্রজন্মকে ব্যস্ত রাখতে সরকারের উচিৎ বহুমুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে এদের ব্যস্ত রাখা। অলস সময় স্মার্টফোনে নষ্ট না করে যেকোনো সামাজিক কর্মকাণ্ড করার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। অভিভাবকদের অনুরোধ করবো, নিজ দায়িত্বে বাচ্চাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। বাচ্চা কার সাথে মিশে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করতে হবে। স্মার্টফোন ব্যবহার কমাতে ক্রিকেট, ফুটবল, নাচ, গানসহ বিভিন্ন ইভেন্টের সাথে যুক্ত করে বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখতে হবে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ সুতরাং মাটির মতো কোমলমতি শিশুদের অবাধে যত্রতত্র না দিয়ে সুন্দর পথ দেখাতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, আমার বাচ্চা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ, ব্যারিস্টার কিংবা উচ্চতর ডিগ্রিধারী হবার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া খুবই জরুরি। বাচ্চাদের মানবিক গুণাবলির অধিকারী করতে প্রতিনিয়ত লেগে থাকতে হবে। মাদক ঠেকাতে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবাইকে এক হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবাধ্য ছাত্রদের কৌশলে ভালো পথে আনার চেষ্টা করতে হবে। সবার আগে মা বাবাকেই সন্তানের সুনজরে রাখতে হবে। কিশোর বয়সে বাচ্চাদের ভালো হয় এমন কাজে উৎসাহিত করতে হবে। বাচ্চাদের হাতে অবাধে স্মার্টফোন তুলে দেয়া উচিৎ না। বাচ্চাদের অন্যায় আবদারগুলো কৌশলে এড়িয়ে যেতে হবে। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের সহায়তায় আমরা একটা সুন্দর জাতি পেতে পারি। মাদকের ছোঁবল হতে রক্ষা করতে যে যার জায়গা হতে সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি তবেই মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মাদকদ্রব্য যাতেকরে আনাচে–কানাচে পৌঁছাতে না পারে সে ব্যপারে সবাইকে সতর্কবার্তা দেয়ার পাশাপাশি কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই মাদকের কবলে জর্জরিত সমাজ, হুমকির মুখে জাতি রক্ষা পাবে।












