তদন্ত প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

চমেক হাসপাতালে অর্থমন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৫ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় আহত শ্রমিকদের দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছুটে যান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দ্রুতই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কারও পক্ষে বা বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য বের করে আনা। ইয়ার্ডটিতে নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্সের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক হংকং কনভেনশনের মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের গ্রেডিং ও সনদ দেওয়া হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডটিতে নিয়ম পালনে কোনো বিচ্যুতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সহায়তার বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। দুর্ঘটনাস্থলে বিষাক্ত গ্যাসের নির্গমন পুরোপুরি বন্ধ করতে বর্তমানে সেনাবাহিনীর একটি দল কাজ করছে। পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চেম্বারের পরিচালক এসএম সাইফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি জাহাজ কাটার কাজ করার সময় হঠাৎ ট্যাঙ্কার থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ৯ জন শ্রমিক মারা যান। এছাড়া আরও কয়েকজন শ্রমিককে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুই ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা সেকান্দার
পরবর্তী নিবন্ধআজ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন