ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির ঠিক এক মাসের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙন ধরল দলটিতে। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ৮০ জন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন গতকাল। তারা দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জীকে পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে মেনে নিয়েছেন, তাকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদাও দিয়ে দিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার। এই বিদ্রোহীরা এখন নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে।স বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাদের পরামর্শদাতা হিসেবে চান।
যে সমস্ত তৃণমূল বিধায়ক গতকাল ঋতব্রত ব্যানার্জীকে পরিষদীয় দলনেতা হওয়ার প্রস্তাবনায় স্বাক্ষর করেছেন, সেই তালিকায় মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এবং সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানও আছেন। রয়েছেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা, সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানের মতো বহু পরিচিত তৃণমূলের নেতাও।
এর মধ্যে গতকাল এঙে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি পোস্টে জানানো হয়, দলের সব সাংগঠনিক কমিটি এবং সব শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পোস্টে তৃণমূল লিখেছে, ‘সতর্ক বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সব সাংগঠনিক কমিটি এবং দলের সব শাখা ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান কমিটিগুলো অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটা স্তরে পর্যালোচনা করে তার পরে নতুন করে কমিটিগুলি গড়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
টানা ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকার পর এবছর অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি)। এরপর ভাঙনের মুখে পড়ে দলটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় বিধানসভায় যাওয়ার সুযোগ হারানোর পর সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনয়ন দেন তিনি। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের বিধানসভার বেশ কয়েকজন সদস্য বিদ্রোহ দেখায়। তাদের অভিযোগ, শোভনদেব চ্যাটার্জীর নাম বিরোধী দলনেতা হিসাবে দেওয়া প্রস্তাবনায় যে স্বাক্ষর রয়েছে সেখানে ‘অসংগতি’ রয়েছে। তৃণমূল বিধায়কদের ‘সই–জালিয়াতি’র কথা স্পিকারকে লিখিত ভাবে জানানোর অপরাধে সোমবারেই ঋতব্রতসহ দলের আরেক বিদ্রোহী সন্দীপনকে বহিষ্কার করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। ৪৮ ঘণ্টা পরে দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনই রয়েছে ঋতব্রত এবং সন্দীপনদের দিকে।
ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত এবং সন্দীপন ছাড়া এই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই আছে। চিঠিতে কেবল বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা–ও উল্লেখ করা হয়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিতে নিজেদের সভানেত্রী বলে উল্লেখ করেন বিদ্রোহীরা।
নতুন বিরোধী দলনেতা হওয়ার পরে ঋতব্রত জানান, তৃণমূলের টিকিটে জয় পাওয়া দুই–তৃতীয়াংশ বিধায়কই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিধানসভায় শাসক ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে লড়াই করবেন বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হওয়ার আর্জি জানান ঋতব্রত। তবে মমতার ভতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাদের দূর–দূরান্তের সম্পর্ক নেই বলে জানান।












