ডায়াবেটিস জীবনব্যাপী একটি রোগ। যে ব্যক্তির ডায়াবেটিস হয় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এই ভেবে যে, তিনি আর কখনোই ভালো ভালো, মুখরোচক খাবার খেতে পারবেন না মাথায় এমনভাবে ঢুকে যায় যে, তাকে সারাটা জীবন শাক–সব্জি খেয়েই বেঁচে থাকতে হবে। ব্যাপারটা আসলে একদমই তা নয়। প্রথমতঃ ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই তিনি রোগী নন, যতোক্ষণ রোগটি তার নিয়ন্ত্রণে আছে তিনি একজন সুস্থ, স্বাভাবিক এবং কর্মক্ষম ব্যক্তি।
সকল পরিশ্রমের পেশায় তিনি নিয়োজিত থাকতে পারবেন।
খাদ্যের ৬টি উপাদান মিলিয়ে প্রতিবেলায় সুষম খাবার তিনি খেতে পারবেন। অর্থাৎ সরাসরি চিনি, মিষ্টি, গুড়, মধু ছাড়া সব খাবারই খাওয়া যাবে। আসুন জেনে নিই, মধু মাসের ফল ডায়াবেটিক ব্যক্তি কতোটুকু খেতে পারবেন।
কাঁঠাল : জাতীয় ফল কাঁঠাল। বিশাল আকৃতির এই ফলের প্রতিটি অংশই উপকারী। অর্থাৎ কোনকিছুই ফেলনা নয়। এটি পুষ্টি সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণসহ প্রোটিন, শর্করা, ভিটামিন থাকায় তা মানুষের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। ১০০ গ্রাম কাঁঠালে ৩০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য এটি উপকারী। ডায়াবেটিক রোগীরা ভাবে মধুমাসের ফল তাঁদের জন্য নয়, কথাটি একদম ঠিক না। একজন ডায়াবেটিক ব্যক্তি ৫০ গ্রাম অর্থাৎ প্রতিদিন ৩টি কোয়া খেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ডায়াবেটিস বাড়বে না।
আম : সুস্বাদু, রসালো ভিটামিন ‘এ‘’-তে ভরপুর একটি ফল হচ্ছে আম। কাঁচা এবং পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়। তবে যাঁরা ওজন কমাতে চান, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তারুণ্য ধরে রাখতে চান তাঁরা ইচ্ছামত কাঁচা আমের শরবত বা কাঁচা আম খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। তবে পাঁকা আমে প্রচুর ভিটামিন এ, সি, বি থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্কীনে কালো দাগ দূর করে। ২৫ রকমের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এতে চিনির পরিমাণ বেশী থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সীমিত পরিমাণে খেতে হবে। যেমন, দিনে মাঝারি সাইজ অর্থাৎ ৩০–৫০ গ্রাম ওজনের একটি আম। ১০০ গ্রাম আমে ৩ গ্রাম আঁশ থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্যা নিরাময় করে, কোলেস্টেরল কমায়।
লিচু : ফ্যাট ও কোলেস্টেরল না থাকায় এই ফলটি বেশ নিরাপদ। কিন্তু চিনির পরিমাণ একটু বেশী থাকায় এবং গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স ৫০ থাকায় ডায়াবেটিক রোগীর জন্য দিনে ৬টির বেশী না এবং সেদিন আর অন্য কোনো মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, খুব অল্প সময় থাকে এই ফলটি প্রচুর ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, খনিজ এবং ফাইবার আছে।
আনারস : পুষ্টি গুণে ভরপুর আরেকটি ফল আনারস। এই ফলে ব্রোমেলিন নামক এনজাইম থাকে, যা হজমে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা প্রোটিন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে কুঁচকে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। কিন্তু আনারসে যে পরিমাণ চিনি থাকে ডায়বেটিক রোগীরা পরিমাণ জেনে খেলে ক্ষতি হবে না। একজন ডায়াবেটিক রোগী যদি ৬০ গ্রাম অর্থাৎ একটি ছোট আনারসের ৪ ভাগের ১ ভাগ দিনে খান, তাহলে ডায়াবেটিস বাড়বে না।
তরমুজ : গ্রীষ্মকালীন এই ফলটিতে ৯২ ভাগ আছে পানি। যা তাপদাহ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। ১০০ গ্রাম তরমুজে শর্করা আছে ৩–৫ গ্রাম, ক্যালরি খুবই কম, মাত্র ১৫ কিলো ক্যালরী। যাঁদের ওজন বেশী তাঁরা নিশ্চিন্তেই খেতে পারবেন, হিসাব করতে হবে ডায়াবেটিক রোগীদের তারা দিনে ১৫০ গ্রাম খেতে পারবে। হিসাব করে খেলে সুস্থ থাকা সম্ভব।
লেখক : বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ













