নগরীর ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রশাসন আবার ভেঙে দিলো ওসমানের নতুন জুয়ার ঘর। ইতোপূর্বে তার একটি জুয়া ও মাদকের ঘর উচ্ছেদের পর তিনি নতুন করে আবার ঘরটি নির্মাণ করে জুয়া ও মাদকের আসর চালিয়ে আসছিলেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) গতকাল সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে ঘরটি উচ্ছেদ করে। এ সময় নগদ টাকাসহ জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমা।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গত প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবত নগরীর ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী পকেট গেট খালপাড় এলাকায় পরিত্যক্ত ডোবার উপর টিনের তৈরী ঘর নির্মাণ করে পেশাদার জুয়াড়ী ওসমান (৩২)। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ফতেপুরের পশ্চিম পট্টি এলাকার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে আকমল আলী ঘাটের পকেট গেট এলাকার খালপাড় এলাকায় বসবাস করে জুয়া ও মাদকের আসর পরিচালনা করে আসছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ইপিজেড থানা পুলিশ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় গত ৩ জুন ঘরটি উচ্ছেদ করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমা ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। উক্ত ঘরটি ভেঙে দেয়া এবং তার নামে মামলা নেয়ার পর ওসমান গনি ও তার লোকজন কিছুদিন তাদের অপকর্ম বন্ধ রাখেন।
গত কয়েকদিন আগে নগরীর ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহর আকমল আলী খালপাড় সিডিএ বালুর মাঠের উত্তর পাশে আম বাগানের জঙ্গলের ভিতর ওসমান গনি আবার একটি খোলা টং ঘর নির্মাণ করে। তাতে নতুন করে জুয়া ও মাদকের আসর বসায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ইপিজেড থানার এসআই আবু বকরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম উক্ত জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৬জন জুয়াড়ীকে গ্রেফতার এবং জুয়ার আসর থেকে ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা টাকা উদ্ধার করেন। ঘটনার ব্যাপারে ইপিজেড থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওসমান গনি ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযান ঠেকাতে যাত্রা পথে ব্যারিকেড নির্মাণসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। জুয়া খেলার ঘরে যাওয়ার পথে দুই জায়গায় বাঁশ দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। পথে কাঁটা ফেলে পুলিশি তৎপরতাকে বাধাগ্রস্ত করারও চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় জুয়ার আসর বসায় আশপাশের আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল। পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করলেও অভিযান শেষে কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবার সেখানে জুয়ার আসর বসানো হতো।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে গতকাল জুয়ার ঘরটি স্থায়ীভাবে অপসারণে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ইপিজেড থানা পুলিশের একটি টিম অংশ নেয়। ঘরটি উচ্ছেদের পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।











