নগরীতে পৃথক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের দুই সহযোগীকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৩০ রাউন্ড গুলি ও শর্টগানের কার্তুজসহ গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি–উত্তর)। গতকাল শনিবার বিকালে সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ–পুলিশ কমিশনার (ডিবি উত্তর) মো. হাবিবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তাররা হলেন রাউজান উপজেলার আধারমানিক এলাকার মোজাম্মেল হকের পুত্র শুভ (২২) ও কদলপুর শমসেরপাড়া এলাকার মৃত বাচা মিয়ার পুত্র সুমন (৩৩)।
মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে চান্দগাঁও পাঠানিয়া গোদা গোলাম আলী নাজির সড়কের জাকির হোসেন কন্ট্রাক্টরের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের অস্ত্রধারী সহযোগী শুভ ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে শুভর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তার পিস্তলটিতে ‘মেইন ইন ইউএসএ’ লেখা রয়েছে। এছাড়া সুমনের কাছ থেকে আমেরিকার তৈরি আরেকটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিন ও একটি খালি ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গুলি ও কার্তুজ নিজেদের হেফাজতে রেখে তারা চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের নির্দেশে চট্টগ্রাম জেলা ও সিএমপির বিভিন্ন থানা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নগরের চন্দনপুরা এলাকায় চাঁদাবাজির জেরে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান ও চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় যুবক রাজু হত্যাকাণ্ডেও তাদের জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় পৃথক হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শুভ ও সুমনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।












