সাত দিনের মধ্যে বিচার শেষ করে ধর্ষকদের ‘ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো’ নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একইসঙ্গে গার্মেন্টস অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চাহিদার সঙ্গে যেন ডে কেয়ার সেন্টার বাধ্যবাধকতা করা হয়, সেই দাবিও করেছেন তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন বাকলিয়ায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে দেখতে যান তিনি। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন।
শাহাদাত বলেন, রাষ্ট্রকে আমরা বলছি, আইন সংশোধন করতে হবে। যেসব পাষণ্ড এই ছোট্ট মাসুম বাচ্চাদের ধর্ষণ করছে বা ধর্ষণের চেষ্টা করছে, তাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলাতে হবে। ওপেন ঝোলাতে হবে, যাতে এই ধরনের সাহস আর কেউ না করে। এই ধরনের আইন দ্রুত প্রণয়ন করা উচিত। এসব মামলার আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সাত দিনের মধ্যে তাদের বিচার শেষ করে শাস্তি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
মেয়র বলেন, এখানে (ওসিসি) আরো দুটো বাচ্চা। একটা বাচ্চা বায়েজিদের, তার বয়স চার বছর। বাচ্চার মা গার্মেন্টেসে চাকরি করে। আরেকটি বাচ্চা আছে চান্দগাঁওয়ের। সে ঘটনা হয়েছে এক সপ্তাহ আগে। চান্দগাঁওয়ের বাচ্চাটির বয়স সাড়ে তিন–চার হতে পারে। বাচ্চার মা এতদিন লজ্জার কারণে বলতে পারেনি। এ ঘটনার (বাকলিয়া) পর প্রকাশ করে।
মেয়র বলেন, আমি তিনটা বাচ্চারই মায়ের সাথে কথা বলেছি। তিনজনই গার্মেন্টসে চাকরি করে। তাদের বাবা রিকশা চালায়। বাসায় আসলে দেখার মতো কেউ নেই। একজন বলল, বাচ্চাকে মাদ্রাসায় দিয়েছে। সকাল ৯টার দিকে বাচ্চা মাদ্রাসায় যায়, রাতে গার্মেন্টস থেকে ফেরার পথে বাচ্চাটাকে নিয়ে আসে। মাঝখানের সময়ে বাচ্চা মাদ্রাসার তত্ত্বাবধানে থাকে, সেখানে খাবার দেয়।
তিনি বলেন, এখানে দেখা যাচ্ছে ছোট বাচ্চা, তাকে কনভিন্স করে কেউ না কেউ নিয়ে যাচ্ছে। তাকে হয়তো চকলেট দিচ্ছে। মাসুম বাচ্চাদের এভাবে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ডা. শাহাদাত বলেন, গার্মেন্টস মালিকদের কাছে আমার অনুরোধ, গার্মেন্টস সেক্টর থেকে আমরা সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাই। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এই গার্মেন্টস সেক্টরের ওপর নির্ভর করছে। সেই গার্মেন্টসে যে মায়েরা রাত–দিন এত কষ্ট করে কাজ করছে, রাত–দিন পরিশ্রম করছে, তাদের বাচ্চারা যদি নিরাপদ না থাকে, সেটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। গার্মেন্টস মালিকরা চাইলে তাদের জন্য একটা আবাসন বা একটা ডে কেয়ার সেন্টার করতে পারে, সেটা করা বড় কোনো ফ্যাক্টর না। ছোট ছোট বাচ্চারা সেখানে থাকবে, খেলবে। প্রয়োজনে টিচার রেখে বাচ্চাদের পড়াবে। আরবি শিক্ষা হোক, বাংলা কিংবা ইংলিশ মিডিয়ামের হোক, এটা কোনো ফ্যাক্টর না। এত টাকা তারা ইনভেস্ট করছে, সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটা ডে কেয়ার সেন্টার তারা করতে পারে।
তিনি বলেন, এখানে যে তিনটি হিস্ট্রি দেখলাম সবগুলোই সেইম। এ রকম আরো যে কত হিস্ট্রি আছে। ওসিসিতে ডাক্তার যারা আছেন তাদের জিজ্ঞেস করেছি, তারা বলেছেন গত ৮ বছরে ১২ বছরের নিচে এখানে রিপোর্ট করেছে ৪১২ জন শিশু। ১২ বছরের বেশি বয়সের রিপোর্ট আমাকে দেয়নি। এছাড়া যারা রিপোর্ট করেনি এ সংখ্যাটা মনে হয় আরো উদ্বিগ্নজনক, কারণ অনেকে লজ্জার জন্য আসেনি।
মেয়র বলেন, যদি পুরো সোসাইটিকে অ্যাড্রেস করি, এটার দায়বদ্ধতা সবার। আমরা শুধু টাকার পর টাকা বানাব, কিন্তু গার্মেন্টেসে যারা কাজ করছে তাদের ছোট ছোট বাচ্চারা রিস্কিভাবে সমাজে বাস করবে–এটা হতে পারে না।
তিনি বলেন, কিছু কিছু মা ছোট বাচ্চাদের ২০–৩০ টাকা দিয়ে দোকানে পাঠান। সেখানে দোকানদার, দোকানের আশেপাশে কিছু লোক ঘুরঘুর করে এবং তারাই এ কাজগুলো করছে। আমার মনে হয় ছোট বাচ্চাদের এভাবে দোকানে পাঠানো উচিত হবে না। এটা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ডা. শাহাদাত বলেন, আমরা একটি বড় ডে কেয়ার সেন্টার করব। আমি জায়গা খুঁজছি। কিন্তু গার্মেন্টস মালিক যারা আছে তাদের বলতে চাই, আপনারা প্রত্যেকটা গার্মেন্টসের সাথে ডে কেয়ার সেন্টার করেন।
মেয়র বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করছি, গার্মেন্টসের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রিকোয়ারমেন্টসের আওতায় এনে এটা (ডে কেয়ার) যাতে বাধ্যবাধকতা করা হয়। গত বছর বর্ষাকালে একটা ছোট্ট বাচ্চা ড্রেনে পড়ে যায়। ওই বাচ্চার মা হালিশহরে গার্মেন্টসে চাকরি করতে গিয়েছিল। তখন সে একা একা নিচে চলে আসে। তাকে দেখার কেউ ছিল না। তার বল ড্রেনে পড়ে যায়। বল নিতে গিয়ে সেও ড্রেনে পড়ে মারা যায়।
তিনি বলেন, যখন বাচ্চার মায়েদের সাথে কথা বলছি, তারা বলেছে তাদের কাছে টাকা নেই। তারা খাবে কী? তারা তো শ্রমজীবী। আমি তাদের বলেছি, ইনশাআল্লাহ আমি যতদিন শহরে আছি আপনাদের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু এটার স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত।










