ম্যাচ শেষে অকপটেই স্বীকার করলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই ম্যাচে তাদের কৌশল উপযুক্ত ছিল না। ‘ম্যাচের একদম শুরু থেকেই আমরা দুজন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে তিনজন নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছিলাম এবং স্পেনের বিপক্ষে ব্যাপারটি ছিল বেশ কঠিন। ফাবিয়ান রুইস এবং রদ্রি খেলার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিল। প্রেসিংয়ের সময় আমাদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব ছিল। আমার মনে হয়, আমাদের ম্যান–টু–ম্যান প্রেসিং করা উচিত ছিল এবং আমাদের সঙ্গে তাদের দৌড়াতে বাধ্য করা উচিত ছিল।’ স্পেনের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্য তুলে ধরে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবে নিজেদের খেলা খেলতে পারিনি–টেকনিক্যালি ও ট্যাকটিক্যালি। বিশ্বকাপের সেমি–ফাইনালে যখন কোনো দল জানে না কী করতে হবে, তখন সেই দল জিততে পারে না। স্পেন তাদের পরিকল্পনায় অটল থেকেছে, সাধারণত তারা সসময়ই যেটা করে থাকে। তারা বল এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল তাদের ওপর উঁচু থেকে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের ছন্দ খুঁজে না পায়। কারণ খেলা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তারা আমাদের চেয়ে ভালো। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। আমাদের কৌশলগত দিকটা খুব ঢিলেঢালা ছিল। যখন সুযোগ ছিল, তখন আমরা তাদের আঘাত করতে পারিনি।’ শুধু কৌশলগত দুর্বলতাই নয়, মাঠে নিজেদের পারফরম্যান্সের ঘাটতির কথাও বলেন এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত অসাধারণ ফর্মে থাকা ফরোয়ার্ড। ‘এমনকি যখন আমরা বল পুনরুদ্ধার করছিলাম, আমাদের প্রথম স্পর্শগুলো যথেষ্ট ভালো ছিল না। এটাই পরাজয়ের কারণ। এটা একটা বিরাট হতাশা। কিন্তু বস্তুনিষ্ঠভাবে বলতে গেলে, ফাইনালে যাওয়ার জন্য মান আমাদের ছিল না, প্রয়োজনীয় সব উপাদান আমরা কাজে লাগাতে পারিনি।’ ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের সাথে এমবাপ্পের সংঘর্ষ হয়, যার ফলে সিমন মাটিতে পড়ে যান এবং এমবাপ্পে হলুদ কার্ড পান। ম্যাচ শেষে অবশ্য নিজেকে সামলে নিয়েই বাস্তব উপলব্ধিগুলো তুলে ধরেন ২৭ বছর বয়সী তারকা। নিজের দায়টুকু নিতেও তার আপত্তি নেই। ‘অধিনায়ক হিসেবে, আমাকে সমস্ত দায়িত্ব নিতে হবে এবং এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমরা ফাইনালে যেতে চেয়েছিলাম। যেতে পারিনি।’












