ব্যবসা বাণিজ্যের অগ্রগতিসহ নানা ক্ষেত্রে ঢাকামুখিতা কমাতে হবে

| মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের উন্নয়নের কথা বলেন এবং প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশিবিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সমপ্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

গত রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম জেলার সামপ্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চট্টগ্রামের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের চট্টগ্রাম থেকে আমরা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিএকটি অর্থ মন্ত্রণালয়, আরেকটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যে অঞ্চলের দুইজন ব্যক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ দু’টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য, তা হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমরা জনগণের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি তাতে আপনাদের সমর্থন থাকতে হবে। কারণ আমরা সবসময় বলি, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যতগুলো কর্মসূচি নিয়েছি সবগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’

আমরা প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলোকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। তবু ব্যবসা বাণিজ্যের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের ঢাকামুখিতা কমাতে হবে। কেননা, চট্টগ্রামে কোনো উদ্যোক্তা ব্যবসাবাণিজ্য বা শিল্পকারখানা স্থাপন করতে চাইলে তাঁকে বারবার ঢাকায় ছুটে যেতে হয়। ব্যাংকঋণ থেকে শুরু করে আমদানিরপ্তানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুমোদনের জন্য ব্যবসায়ীদের এই দৌড় এখনো থামেনি। দেশে ৫৯টি ব্যাংকের কার্যক্রম থাকলেও একটিরও প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে নেই। খাদ্যশস্যসহ উদ্ভিজ্জাত পণ্য আমদানি করতে হলে ব্যাংকে ঋণপত্র খোলার আগে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের আমদানি ছাড়পত্র (আইপি) নিতে হয়। এটি একবার চট্টগ্রামে, আবার ঢাকায়এভাবেই চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমদানিরপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে ৫৫টি সেবা দেওয়া হয়। এসব সেবার মধ্যে বেশিরভাগই ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে নিতে হয়। মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ ২৮ ধরনের পণ্যের আমদানি ও রপ্তানির অনুমতির জন্য ঢাকায় দৌড়াতে হয় ব্যবসায়ীদের। শিল্পকারখানায় বয়লার বসানোর আগে আমদানির ছাড়পত্র কিংবা বয়লারের নিবন্ধন পেতে হলেও ঢাকার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। চট্টগ্রামে কার্যালয় থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদন হয় ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে। পণ্য রপ্তানির আগে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে নিবন্ধন নিতে হয়। চট্টগ্রামে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কার্যালয় এসংক্রান্ত যাচাইবাছাই কাজ করলেও নতুন নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হয় ঢাকা থেকে।

তাঁরা বলেন, পোশাক কারখানার যন্ত্রপাতি আমদানির জন্যও প্রত্যয়নপত্র নিতে হয় বিজিএমইএ থেকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রত্যয়নপত্রে সই লাগবে সংগঠনের সভাপতির। চট্টগ্রামে সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি থাকলেও তাঁর ক্ষমতা নেই। এত বোঝা মাথায় নিয়ে কারখানা করলেন কোনো উদ্যোক্তা। উৎপাদনও শুরু হলো। কিন্তু উৎপাদিত পণ্য যদি হয় রড, ভোজ্যতেল বা সিমেন্ট, তাহলে আরও একবার ভোগান্তি কাঁধে নিতে হবে চট্টগ্রামের উদ্যোক্তাকে। কারণ, চট্টগ্রামের বিএসটিআই কার্যালয়ের এসব পণ্যের মান পরীক্ষার ক্ষমতা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী হলে বাণিজ্যসংক্রান্ত সব ধরনের সেবা চট্টগ্রামেই পাওয়া যাবে। ব্যবসায়ীদের ঢাকায় দৌড়াতে হবে না। আবার ব্যবসাবাণিজ্যের জন্য সহায়ক অবকাঠামোও থাকবে চট্টগ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানা স্থাপন ও আমদানিরপ্তানির অনেক সেবার অনুমোদন ঢাকা থেকে নিতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

তাই আমরা বলতে চাই, শুধু ঘোষণা চাই না, কার্যকর পদক্ষেপ চাই। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার জন্য অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকার বাইরে অনেক সংস্থার প্রধান কার্যালয় নেওয়া হলেও পরে তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সুতরাং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। সেটা হলে সুফল পাবে পুরো বাংলাদেশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে