পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে

| সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ

গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ উদযাপিত হয়েছে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে। এ উপলক্ষ্যে প্রদত্ত এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, পর্যটন শুধু অবকাশযাপনের সুযোগ নয়; এটি কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।

এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্‌্িলষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, পর্যটন পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা, দেশ–বিদেশের পর্যটক এবং দেশের সর্বস্তরের পর্যটনপ্রেমীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

পর্যটন দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’–পর্যটনের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও স্মার্ট প্রযুক্তি পর্যটনসেবা আরো ব্যাপক, সহজ, নিরাপদ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের বিল, হাওড়, বাওড়, পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও কৃষিকে ঘিরে আবহমান কাল ধরে চলে আসা বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বিশ্ববাসীকে সহজেই মুগ্ধ করে। আমাদের এই পর্যটন সম্পদকে বিশ্বের পযটকদের কাছে আরো বেশি করে তুলে ধরতে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের তরুণদের অনেকেই দেশের পর্যটনকে বিশ্বের কাছে ও দেশের ভ্রমণ পিয়াসীদের কাছে তুলে ধরতে অসামান্য ভূমিকা পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানসম্মতভাবে তুলে ধরতে পারলে আমাদের পর্যটন খাত উন্নয়নের পথে আরো গতিশীলতা পেত–সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তাছাড়া পর্যটকদের যাতায়াতকে আরো সহজ করতে এবং বিশ্রামের জন্য আরো সাশ্রয়ী সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় প্রয়োজনীয় রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল গড়ে তুলতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। পর্যটকরা যাতে কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হন, যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন সেদিকে বিশেষ নজর দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নানান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে এবং বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের পর্যটনকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারলে পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

পর্যটন বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনকে কয়েকটি আলাদা প্যাকেজে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা যেতে পারে। যেমন সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন, সুন্দরবনভিত্তিক ইকো–ট্যুরিজম, পাহাড়ি পর্যটন, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক পর্যটন, ধর্মীয় পর্যটন, নদী ও হাওর পর্যটন, গ্রামীণ পর্যটন, সাংস্কৃতিক পর্যটন এবং চিকিৎসা ও সম্মেলনভিত্তিক পর্যটন। একটি দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রকে একইভাবে প্রচার না করে বাজারভিত্তিক ব্র্যান্ডিং করলে ফলাফল বেশি কার্যকর হতে পারে।

তাঁরা বলেন, পর্যটন খাতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি হলো এই শিল্পের অন্যতম একটি সমস্যা। কতজন দেশি পর্যটক কোথায় যাচ্ছেন, বিদেশি পর্যটকের প্রধান উৎস কোন দেশ, তারা কোথায় থাকছেন, কত অর্থ ব্যয় করছেন, কোন সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট হচ্ছেন, কোন পর্যটনকেন্দ্রে কত চাপ তৈরি হচ্ছে, এসব তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তবে আশার কথা, সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র চিহ্নিত করে সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা আছে বলে জানা গেছে।

এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে, পর্যটনশিল্প বিকাশের অবারিত সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশে। বিভিন্ন উৎসবকালীন মানুষের ঘুরে বেড়ানোর যে প্রবণতা, তা এই অর্থনৈতিক বিকাশকে আরো বাড়িয়ে দেবে। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ ৫১টি দেশের পর্যটক আমাদের দেশে আসবে। বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১০ শতাংশ এই পর্যটন খাত থেকে আয় করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পর্যটন উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ। পর্যটনকেন্দ্রের মানুষ যদি পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল না পান, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে পর্যটন টেকসই হবে না। স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ট্যুর গাইড, ড্রাইভার, হোটেলকর্মী, রেস্টুরেন্টকর্মী, হস্তশিল্প উদ্যোক্তা, নৌযান পরিচালনাকারী ও পর্যটন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে