বোনাসের টাকা সুইমিং পুল ও জিমের জন্য দিলেন শান্তরা

স্পোর্টস ডেস্ক | শুক্রবার , ২২ মে, ২০২৬ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

মিরপুর শেরবাংলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম উন্নত করা এবং পাশেই একটি সু্‌ইমিং পুল তৈরি করার প্রক্রিয়া কিছু আগে শুরু করেছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবির অ্যাডহক কমিটি। এবার সেখানে অবদান রাখছেন জাতীয় ক্রিকেটাররাও। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে যে বোনাস পাওয়ার কথা তাদের, সেই অর্থ তারা দিচ্ছেন বিসিবির এই উদ্যোগে। র‌্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন ধাপ অনুযায়ী বিভিন্ন দলকে হারানোর জন্য বোনাসের ব্যাপারটি বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতেই আছে। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বর দল পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করায় ভালো অঙ্কের টাকাই পাওয়ার কথা ক্রিকেটারদের। তবে বিসিবিতে বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম জানান, এবারের বোনাসকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে দিয়েছেন ক্রিকেটাররা, যেটায় উপকৃত হবেন সব পর্যায়ের ক্রিকেটাররা। ‘বাড়তি কিছু তারা ডিজার্ভ করে। তবে এবার একটু ইউনিকই বলতে পারেন, ইউনিক ব্যাপারই হয়েছে। ক্রিকেটারদের তরফ থেকেও একটা জিনিস এসেছে, যেটা আমি খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করি যে, ওরা বলেছে, ‘ভাইয়া বোনাস আমাদের দরকার নাই। আপনি যদি একটা খুব সুন্দর করে একদম বেস্ট অফ দা বেস্ট ফ্যাসিলিটিজ দিয়ে জিমটা আর সঙ্গে সুইমিং পুলটা যদি করে দেন, তাহলে আমরা এটা আমাদের বোনাস হিসেবে ধরে নেব।’ ‘ওদের বোনাসের টাকাতেই সব হবে না, এটা করতে তো আরও অনেক বেশি টাকা লাগবে। তবে তারা তাদের তরফ থেকে এই অবদান রাখতে চায়। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা তৈরি ছিলাম। বোনাস দেওয়া লাগলে অবশ্যই দিতাম। তবে তারা শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করেনি। তাদের ছোট ভাইয়েরা, অনূর্ধ্ব১৯, অনূর্ধ্ব২৩, এইচপি (হাই পারফরম্যান্স), তারাও এই ফ্যাসিলিটিজগুলো ব্যবহার করবে।’ মিরপুরে যে জিম এখন ব্যবহার করেন ক্রিকেটাররা, সেটি বেশ পুরোনো হয়ে গেছে এবং আধুনিক সময়ের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। সুইমিং পুল নির্মাণের ভাবনা বিসিবির অনেক বছরের, কিন্তু সেটি বাস্তবায়নের কোনো প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। বিভিন্ন সিরিজে বা ক্যাম্পের সময় পাঁচ তারকা হোটেলে সাঁতারের ব্যবস্থা করা হয়। তামিম জানান, এবার জিম ও সুইমিংপুল হবে সর্বাধুনিক। ‘আমি তাদেরকে বলেছি পৃথিবীর সেরাগুলোর সেরা যে ইকুইপমেন্টস আছে, ওগুলো দিয়ে আমরা এই জিমটাকে খুব সুন্দরভাবে করে দেব। সঙ্গে সামনে সুইমিং পুল করে দেব। আইস বাথ, হট বাথের জন্য যেটা সামপ্রতিকতম প্রযুক্তি, বারবার আইস এনে আইস বাথ করতে হবে না। মেশিনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ঠান্ডা করবে আর গরম করবে। ওগুলো যত কিছু আছে, আমরা করে দেব। এর মধ্যেই আমরা এই প্রক্রিয়াগুলো শুরু করে দিয়েছি।’ এখন যে জায়গায় জিম আছে, সেখানেই জায়গা বাড়িয়ে সংস্কার করা হবে। পাশে এক চিলতে খালি জায়গা আছে, সেটি কাজে লাগানো হবে সুইমিং পুলের জন্য। ‘জিম নিয়ে যে পরিকল্পনা আমরা করেছি, এই জিমটাকে পুরো সংস্কার করব। জায়গা এটাই থাকবে, ভেঙে একটু বড় করব। বড় করে পুরা সংস্কার করে যে ইকুইপমেন্টসগুলো এখন বিশ্বের সেরা কোম্পানির যেগুলো আছে, তাদের থেকে আনব। তাদের সঙ্গে আমরা এর মধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছি। তাদের সেরা ইকুইপমেন্টস দিয়ে একটা সুন্দর করে একটা যথাযথ জাতীয় জিম যেরকম হওয়া উচিত, সেরকম করে দেব।’ ‘তার ঠিক সামনে দেখবেন খালি জায়গা আছে। এই জায়গায় একটা স্টিলের কাঠামো করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমতি নিয়ে সুইমিং পুল হবে, আইস বাথ আর হট বাথের জন্য ফ্যাসিলিটিজ থাকবে, সঙ্গে চেঞ্জিং রুম এবং সবকিছু। যারা খেলার মধ্যে আছে, তারা ব্যবহার করবেই। কিন্তু যারা ইনজুরিতে আছে, ওদের জন্যও একটা রিকভারির জায়গা হয়ে যাবে।’ ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তামিমের আশাবাদ, সামনের নির্বাচনের পর নতুন বোর্ডও এই প্রক্রিয়া ধরে রাখবে। ‘প্রত্যেক ক্রিকেটার, যারা খেলেছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। যে টাকা তারা বোনাস পেত, সেটা হয়তো তাদের জন্য জীবন বদলে দেওয়ার মতো কিছু হতো না। কিন্তু পরিবর্তে যে জিনিসটা চেয়েছে, এই ফ্যাসিলিটিজ দিয়ে অনেকের ক্রিকেটিং অনেক কিছু উন্নত করতে পারে। আশা করি, যারা নির্বাচন করে আসবেন, আমি যদি আসি বা অন্য যদি কেউ আসে, তারা এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে দেবে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধভারতে যাব শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে : ঋতুপর্ণা
পরবর্তী নিবন্ধবিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন তামিমসহ ১২ জন!