বৃক্ষরোপণে দেশসেরা জাতীয় পুরস্কার পেল কেইপিজেড

৩০ লাখ গাছে সবুজের নজির

আনোয়ারা প্রতিনিধি | শুক্রবার , ১০ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে গড়ে ওঠা কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) গত ২৬ বছরে ৩০ লাখেরও বেশি গাছ রোপণ করে দেশে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কারে প্রথম স্থান অর্জন করেছে কেইপিজেড।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন ও কেইপিজেডের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কিহাক সাং–এর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কিহাক সাংকে সম্মানসূচক বাংলাদেশি নাগরিকত্ব প্রদান করে।

কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়, বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন, ১৯৯৬–এর আওতায় ২ হাজার ৪৯২ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে এই শিল্পাঞ্চল। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ জমি সংরক্ষিত হয়েছে বনভূমি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, লেক, দীঘি ও উন্মুক্ত সবুজ এলাকায়। অবশিষ্ট ৪৮ শতাংশে শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

১৯৯৯ সালে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই পরিকল্পিত বনায়ন শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে এবং চলতি বছর আরও প্রায় দুই লাখ চারা রোপণের কাজ চলছে। কেইপিজেডে ৬০ একরজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেন, যেখানে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১ হাজার ৮৫০–এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এখানকার বনাঞ্চলে ৪০০–এর বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি শনাক্ত করেছেন। শুধু উদ্ভিদ নয়, কেইপিজেড এখন বন্যপ্রাণীরও নিরাপদ আবাসস্থল। বর্তমানে এখানে ২৯২ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বসবাস করছে, যা এ বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

বনায়নের অংশ হিসেবে এখানে রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ সেগুন, তিন লাখ মেহগনি, দেড় লাখ গামারি, ৫০ হাজারের বেশি গর্জন, এক লাখের বেশি হাইব্রিড এবং প্রায় এক লাখ ওষুধি গাছ। এছাড়া দুই লাখের বেশি ফলদ গাছ এবং জারুল, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, রেইনট্রি, ঝাউ, বকুল, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন প্রজাতির আরও প্রায় আট লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দেশি–বিদেশি আরও কয়েক লাখ গাছ। বর্তমানে কেইপিজেডে ৫৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৪০ হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত, যাদের অধিকাংশই নারী। আরও ২৭টি প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে এবং ৩৮টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এখানে দুই লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

কেইপিজেডের উপমহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনায়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। ইতোমধ্যে কেইপিজেড শতভাগ পরিবেশবান্ধব রপ্তানি অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সবুজায়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চলতি বছরও আরও দুই লাখ গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসড়কে মৃত্যু প্রতিরোধে গতি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে কর্মশালা
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি দল