বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং পারিজাত এলিট : লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং পারিজাত এলিট ও কাশেম নূর ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাউজানের কদলপুরে অবস্থিত কাশেম নূর স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে লায়ন মুনমুন সুলতানা এমজেএফের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামে সামপ্রতিক অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স জেলা ৩১৫–বি৪–এর গভর্নর লায়ন মো. কামরুজ্জামান লিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দ্বিতীয় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন পারভীন মাহমুদ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব, বাংলাদেশের সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মুসলিম চৌধুরী, কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন মো. বেলালউদ্দিন চৌধুরী, ট্রেজারার লায়ন মো. জিল্লুর রহমান, জিএসটি লায়ন মোহাম্মদ মুসা, রিজিয়ন চেয়ারপারসন (হেডকোয়ার্টার, অ্যাডমিন) লায়ন জাহানারা বেগম, জোন চেয়ারপারসন লায়ন আবেদা বেগম, ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লায়ন শিপ্রা বড়ুয়া এবং সেক্রেটারি–১ লায়ন সিজারুল ইসলামসহ লায়ন্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
পটিয়া আল জামিয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা : পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী আল–জামিয়া আল–ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে বন্যাকবলিত চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ৫০০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, রাসুলাবাদ, ডেঙ্গাকাটা, পহরচাঁদা, পাহাড়তলী, মচনিয়াকাটা এবং পেকুয়া উপজেলার টইটং, পেকুয়া পৌরসভা, দক্ষিণ মেহেরনামা ও বাঘগুজারা এলাকার মুসলিম ও অমুসলিম বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলুসহ বিভিন্ন শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া কয়েকটি পরিবারকে নগদ অর্থসহায়তাও প্রদান করা হয়। এর আগে প্রথম ধাপে বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় হাজারো পরিবারের মাঝেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পটিয়া আল–জামিয়া আল–ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি একরাম হোসাইন অদুদী হাফিযাহুল্লাহর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম আল্লামা জাকারিয়া আজহারী, নাজেমে তালিমাত মুফতি জসিম উদ্দিন কাসেমী, মাওলানা হাফেজ মাসুম, মাওলানা সলিমুদ্দিন মাহদী কাসেমী, মাওলানা আনিসুল হক, মাওলানা শহীদুল ইসলামসহ মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা, খাদেম ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। এ সময় চকরিয়া পাহাড়তলী তা‘লীমুল কুরআন মাদ্রাসা এবং পেকুয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা খাদ্য সহায়তা বিতরণে সার্বিক সহযোগিতা করেন। খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি একরাম হোসাইন অদুদী হাফিযাহুল্লাহ বলেন, দুর্যোগ–দুর্বিপাকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আমাদের এ মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। সকলের সহযোগিতায় আমরা আরও বেশি অসহায় মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে চাই।
চন্দনাইশ বরমা : চন্দনাইশ প্রতিনিধি জানান, সামপ্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চন্দনাইশের ২টি পৌরসভা ৮টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বরমা ইউনিয়নের ৩ হাজার পরিবারে ওবাইদুল হক রোকন চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত ২২ জুলাই দিনব্যাপী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হাশেম রাজু, সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, মোরশেদুল আলম চৌধুরী মুন্না, নওশা মিয়া, আবদুল কাদের সিকদার, এসএম ফরিদ, কেএম হেমায়েদ, মোঃ সেলিম, বিপি আবদুর রউফ প্রমুখ।
কালিয়াইশ প্রবাসী কল্যাণ সমবায় সমিতি : চন্দনাইশ প্রতিনিধি জানান, সাতকানিয়ার কালিয়াইশ প্রবাসী কল্যাণ সমবায় সমিতির উদ্যোগে বন্যাদুর্গত ৫০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত ১৮ জুলাই (শনিবার) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৯টি ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সমিতির উপদেষ্টা আবদুর শুক্কুর, আবদুল মান্নান, আমিনুল ইসলাম, মীর হোসেন, সমিতির সভাপতি তৌহিদ উদ্দীন, সাধারন সম্পাদক ইমরান গনি, সহ–সভাপতি আবুল হোসেন, উদ্দিন নয়ন, আরিফ, সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ মোহসিন, বেলাল হোসেন, ইমাম হোসেন, আনোয়ার হোসেন সানি, আবদুল মান্নান, আমিনুল ইসলাম, মীর হোসেন, খোরশেদ ড্রাইভার, সালাউদ্দিন কাদের, মৌউর উদ্দিন, আমজাদ, খোরশেদ আলমসহ অনেকের সহযোগিতায় উক্ত কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়।
সুগন্ধা সিটি কর্পোরেশন আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতি : চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সুগন্ধা সিটি কর্পোরেশন আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দীন বলেছেন, বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত মর্মান্তিক। এমন সংকটে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। গত ২২ জুলাই সারাদিনব্যাপী সমিতির উদ্যোগে বাঁশখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাদালিয়া, মিনজীরিতলা, কাহারঘোনা, গন্ডামারা, খানখানাবাদ ও কদম রসুলসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খালেদ, নির্বাহী সদস্য মোঃ ইসমাঈল, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জিয়া, এইচ. এম. আজাদ, আবদুল মালেক, কামরুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রজভীয়া নূরীয়া কমিটি : আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া ট্রাস্টের সভাপতি আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরীর (মু.জি.আ) নির্দেশনায় রজভীয়া নূরীয়া কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে ২২ জুলাই সকালে বাঁশখালী ও চন্দনাইশে বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্থ বানভাসিদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ বানভাসিদের সহযোগিতা করার জন্য দেশের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারমান মুহাম্মদ জাহেদুল হাসান রুবায়েত, যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ জাকারিয়া, সাংগঠনিক সচিব মুহাম্মদ আয়ুব তাহেরি, মুহাম্মদ জাকের হোসেন সওদাগর, আরিফুল ইসলাম (হৃদয়), মাওলানা কামরুদ্দীন নূরী, মুহাম্মদ রহিম, মুহাম্মদ মনিরুল হাসান, আব্দুল করিম হিরু প্রমুখ।
ঢাবি অ্যালমনাই : বাঁশখালী প্রতিনিধি জানান, বাঁশখালীতে সামপ্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই চট্টগ্রামের মানবিক উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে ত্রাণ ও পুনর্বাসনে এ অর্থ সহয়তা প্রদান করা হয়। এতে বাঁশখালীর গণ্ডামারা, শীলকূপ, সরল, কাথরিয়া, বাহারচড়া ইউনিয়নে সামপ্রতিক বন্যায় পানিতে ডুবে নিহত ৪ শিশুর পরিবারসহ মোট ২৮টি পরিবারের মাঝে এ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
কর্মসূচির আওতায় পানিতে ডুবে নিহত ৪ শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং গৃহহীন ২৪ পরিবারের প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করে। সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই চট্টগ্রামের উপদেষ্টা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ লিপন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ও হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহমেদ সোবাহান।
অ্যলামনাই সদস্য নৌবাহিনী কর্মকর্তা জাকের হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, এস এম সালাউদ্দিন, অ্যলামনাই সদস্য মোহাম্মদ তাসনিম, নাঈম আল আহাদ, অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া, স্থানীয় রেডক্রিসেন্ট সহকারী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, সাংবাদিক মুহাম্মদ দিদার হোসাইনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই চট্টগ্রামের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আয়োজকরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আশিয়ায় বিএনপি : পটিয়া প্রতিনিধি জানান, টানা বর্ষণ ও সামপ্রতিক বন্যার ধাক্কায় বিপর্যস্ত নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নে বন্যাকবলিত ও অসহায় এক হাজার পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আশিয়া বায়তুন্নুর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই নারী–পুরুষের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে আশিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সার্বিক সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন মানিক বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় নেতাকর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা বন্যাদুর্গত পরিবারের হাতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার, আশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমেদ, বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর, ফারুক খন্দকার, আকতার কামাল, মঈনুদ্দিন চৌধুরী, সোলেমান চৌধুরী, ইমন চৌধুরী, যুবদল নেতা আবছার, হেলাল মেম্বার, আবদুল হান্নান, সাজ্জাদ হোসেন, সাহাব উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোবিনুল হক, পারভেজ মেম্বার, শাহাদাত, মিন্টু, আব্দুর রহিম, নেজাম উদ্দিন চৌধুরী, এনাম, ছাত্রদল নেতা আসিফ, আরমান হোসেন চৌধুরী, কামাল উদ্দিন, ইমনসহ আশিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
পেশাজীবী দল চট্টগ্রাম মহানগর : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে শুক্রবার চন্দনাইশ ও লোহাগড়া উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এড. লোকমান হায়দারের সভাপতিত্বে এবং জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কর আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কর আইনজীবী সহ–সভাপতি আলহাজ্ব ওসমান হায়দার, সহ–সভাপতি এড. সোহরাব আলী খান, সহ–সভাপতি তারেক মহসীন, সহ–সভাপতি এড. সৈয়দ আনোয়ার উল্লাহ, সহ–সভাপতি কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এড. মিনহাজ উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আনসারুল হক, সিনিয়র সদস্য এড. শফিকুল ইসলাম, সদস্য সিরাজুল ইসলাম সিরাজি, শঙ্খতীর সম্পাদক মহিউদ্দীন কাদের, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হোসেন মাহমুদ প্রমুখ। এসময় বক্তরা বলেন–দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এই ত্রান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী দিনেও সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ পাশে থাকবে বলে মত প্রকাশ করেন।
এনজিও ব্যুরো : বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে ত্রাণসামগ্রী, নগদ অর্থ সহায়াতা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এন.জিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকারিয়া। এসময় ব্যুরো প্রধান ড. জকারিয়া বলেন, শুধু বাঁশখালী উপজেলায় নয় বরং সমগ্র চট্টগ্রামের বন্যা সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সম্যক অবগত আছেন। তিনি তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্ধ দিয়েছেন। বর্তমান পূর্ণবাসনসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ড. জকারিয়া গতকাল শুক্রবার সকাল হতে দিনব্যাপী বাঁশখালী পৌরসভার আস্করিয়া পাড়ার তিন মসজিদ মাঠে দোস্ত এইডের ৩৭ কেজি সম্মলিত ফুড প্যাক, আবুল খায়ের ফাউন্ডেশনের পক্ষে ফুড প্যাক বিতরণ করেন। একই সাথে বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে অস্থায়ী নির্মিত হেলথ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এছাড়াও আল মানাহিলের পক্ষে ৪২ কেজি বিশিষ্ট খাদ্য সমগ্রী, ইপসার পক্ষে থ্রিপল বিতরণ, আহসানিয়া মিসনের পক্ষে নগদ অর্থ অনুদান বিতরণ করেছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সিনিয়র সহকারী সচিব শরীফ আহমদ, বাঁশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমরসানি আকন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আবীর শাকরান মাহমুদ, বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ রবিউল হক, এনজিও ব্যুরোর প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাহাদুর রইচ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাষ্টার মুহাম্মদ লোকমান, সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহীম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) এডভোকেট লায়ন নাছির উদ্দীন, সাবেক কাউন্সিলর কিবরিয়া আজম, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস ছবুর, ফরহাদুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা এসএম শহিদ, সাহরিয়ার, জয়নাল আবেদীন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব দিদারুল আলম প্রমুখ।
চন্দনাইশ আবদুর রহীম ফাউন্ডেশন : চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে পশ্চিম চরবরমা আবদুর রহীম ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের চেয়রাম্যান ওবাইদুল হক রোকন চৌধুরী নিজস্ব তহবিল থেকে চরবরমা, বরমা, বাতাজুরী, মাইগাতা, সেবন্দী, বাইনজুরী, আড়ালিয়া, রাউলিবাগ, ধামাইরকুলসহ পুরো বরমা ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদেও মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন আবদুর রহীম চৌধুরী ফাউন্ডেশনের চেয়রাম্যানের আলহাজ্ব ওবাইদুল হক রোকন চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এম এ হাশেম রাজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আবদুর রউফ, কলেজ ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি মোরশেদুল আলম, বিএনপি নেতা মুন্সি মিয়া, কামাল উদ্দীন তালুকদার, সেলিম উদ্দিন, ইউপি মেম্বার আনিসুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ খোকন চৌধুরী, মোজাম্মেল খান, আবদুর রহমান, সাংবাদিক সৈয়দ শিবলী সাদেক কফিল প্রমুখ। ত্রাণবিতরণ কালে আলহাজ্ব মো. ওবাইদুল হক রোকন চৌধুরী বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রত্যেককে প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ।
দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশ : দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব মুফতি আল্লামা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী–সাতকানিয়া–চন্দনাইশ সহ বিভিন্ন উপজেলায় পানিবন্দি লক্ষ লক্ষ পরিবার। অনেক পরিবার সচ্ছল থাকা সত্ত্বেও পানির কাছে অসহায় ছিলো। এমূহুর্তে ত্রাণের পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনে দেশের বিত্তবাশালীরা এগিয়ে আসা নৈতিক দায়িত্ব। ২২ জুলাই দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশের উদ্যোগে বাঁশখালী ও চন্দনাইশে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ আয়ুব তাহেরী, মাওলানা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন নূরী, মাওলানা কামরুদ্দীন নূরী, আরিফ মুঈন উদ্দীন মনির, মুহাম্মদ ওসমান সওদাগর, আরিফুল ইসলাম হৃদয়, আবু হানিফ, মুহাম্মদ ওসমান, কামাল উদ্দিন তালুকদার, মুহাম্মদ সোহেল খাঁন, আব্দুল করিম হিরু, আলী আকবর সুমন, মুহাম্মদ রহিম, মুহাম্মদ আনসার, মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।
হজ্জে বাইতুল্লাহ ট্রাভেলস : বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ হজ্জে বাইতুল্লাহ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস। বাংলাদেশ হজ্জে বাইতুল্লাহ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস এর চেয়ারম্যান ও চবি আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের উদ্যোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সামপ্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঘরবাড়ি হারানো পরিবারের মাঝে পুনর্বাসন সহায়তার অংশ হিসেবে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। ঢেউটিন বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা হাসান ও মোহাম্মদ মচরুর সাইফুল হাবিব প্রমুখ। তারা বলেন, বিতরণ করা ঢেউটিন হয়তো ক্ষতিগ্রস্তদের সব ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না, তবে এটি নতুন করে ঘর নির্মাণ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথে সহায়ক হবে।












